ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ব্রিজ দীর্ঘ ১৯ বছরেও সংস্কার করা হয়নি। উপজেলার ভেরনবাড়িয়া খালের ওপর নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। বছরের পর বছর ধরে চলা এই চরম ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, এরশাদ সরকারের আমলে ভেরনবাড়িয়া খালের ওপর ২২ মিটার দীর্ঘ এই লোহার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের তান্ডবে ব্রিজটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এই ব্রিজ ছিল ভেরনবাড়িয়া গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত শুরু করেন। তবে এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও বয়স্ক মানুষ। সাঁকো পার হতে গিয়ে খালের পানিতে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিছুর রহমান ও মিরাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রানাপাশা ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে জনবসতিপূর্ণ এলাকা ভেরনবাড়িয়া। তাদের গ্রামের এই জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি দীর্ঘ সময় ধরে ভেঙে পড়ে থাকলেও কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। নিরুপায় হয়ে তারা নিজেরা একটি সাঁকো তৈরি করেছেন। কিন্তু সেটি দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এছাড়া বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি এই সাঁকোটি প্রতি বছরই নড়বড়ে হয়ে যায় এবং বারবার সংস্কার করতে হয়। তারা আক্ষেপ করে বলেন, কতদিন আর এভাবে ভোগান্তিতে থাকতে হবে তা তারা জানেন না।
আরেক বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম রনি জানান, এই ব্রিজের খুব কাছেই অবস্থিত উত্তর ভেরনবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ব্রিজ না থাকায় ছোট ছোট শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ কারণে অভিভাবকরাও সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকেন।
এছাড়া এলাকার বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরা আগে এই ব্রিজের ওপর দিয়ে মালামাল পরিবহন করতেন। এখন ব্রিজ না থাকায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতাদেরকেও একই বিড়ম্বনা পোহাতে হয়।
এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর দাবি, কর্তৃপক্ষ যেন অতিদ্রুত ব্রিজটি মেরামত বা নতুন করে নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
জনদুর্ভোগের এই বিষয়ে নলছিটি উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আজিজুল হক জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা ওই ব্রিজের সমস্যার কথা তাদের জানিয়েছেন। খুব দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।


