জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৬৩ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। দুই দিন পরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
এপির খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের পর প্রায় ২৩ হাজার বাড়িতে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার মানুষ ৪০০টির মতো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তীব্র গরমের কারণে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার কুমামোতো কর্তৃপক্ষ জানায়, এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে তাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। উদ্ধারকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিউশু দ্বীপের কুমামোতো অঞ্চল। সেখানে বহু বাড়িঘর ধসে পড়েছে, একটি কারখানার চিমনি ভেঙে পড়েছে এবং একটি শপিংমলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কাশিমা শহরের এওন শপিংমলে। ভূমিকম্পের সময় সেখানে হাজারো মানুষ অবস্থান করছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় তিন হাজার ক্রেতাকে দ্রুত বাইরে সরিয়ে নেওয়া হলেও পরে মলের অন্য একটি অংশে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ভবনের দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন আটকা পড়েন।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মলের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কুমামোতো প্রশাসন। এখনও নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করছেন অনেক পরিবার।
এদিকে ইয়াতসুশিরো এলাকায় নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানার চিমনি ধসে আটজন নিহত হয়েছেন। সেখান থেকে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
জাপানে কঠোর ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণবিধি থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক পুরোনো ধাঁচের বাড়ি তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


