ফ্রান্সে শিক্ষকসংকট ও জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠায় প্রায় ৪০০ বিদ্যালয় ও অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
শুক্রবার ফ্রান্সের আইনমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ রেডিও চ্যানেল আরটিএলকে বলেন, ‘বিক্ষোভে সক্রিয় ও সহিংস একটি সংখ্যালঘু অংশ রয়েছে। তারা আদৌ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না, সে বিষয়েও আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত নই।’
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত মাসে রাজধানী প্যারিসে শিক্ষকসংকট ও জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে চলমান বিক্ষোভে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দারমানাঁ জানান, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে এখন জনশৃঙ্খলা বিঘ্নের পর্যায়ে চলে এসেছি। যখন মানুষ বাসকে লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং বিদ্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়, তখন সেটি আর শুধু প্রতিবাদের বিষয় থাকে না।’

এর আগে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্রান্স টু সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, শুক্রবার চার শতাধিক বিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার জরুরিভাবে ডাকা সংকটকালীন বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলেছে, কট্টর বামপন্থী রাজনীতিকেরা এই আন্দোলনের সূচনা করেছেন। তাদের মধ্যে লা ফ্রঁস আঁসুমিজ দলের সদস্যরাও রয়েছেন।
তবে লা ফ্রঁস আঁসুমিজের আইনপ্রণেতা লুই বোয়ার ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যমের কাছে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীরা অন্তত দুটি উচ্চবিদ্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। দক্ষিণাঞ্চলীয় মার্সেই শহরের আরেকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর অনিচ্ছাকৃতভাবে পেট্রল ছিটকে পড়ে।
পূর্বাঞ্চলীয় স্ত্রাসবুরে অন্তত একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তুলুজে পুলিশ ও তরুণ বিক্ষোভদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রতিবেশী বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরেও বৃহস্পতিবার কয়েকটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, লিয়েজের কর্তৃপক্ষ শুক্রবার শহরের সব বিদ্যালয় বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।


