জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হলে তা “জটিলতা ও অনিশ্চয়তা” তৈরি করবে।’
বুধবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তাহের বলেন, ‘এখন আমরা সবাই একমত হয়েছি যে গণভোটের মাধ্যমেই জুলাই চার্টার গ্রহণ করা হবে। তবে অনেকেই বলছেন, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে করা যেতে পারে–আমরা বলেছি না, গণভোট একটি আলাদা বিষয়, আর জাতীয় নির্বাচন আরেকটি বিষয়।’
একই দিনে দুটি নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য নেতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুটি নির্বাচন একসঙ্গে হওয়ার একটা ভালো দিক আছে, কিন্তু মন্দ দিক অনেক বেশি। আপার হাউজের মতো কিছু ইস্যু আগামী নির্বাচনের অংশ হবে। যদি একই দিন করেন, তাহলে জনগণ গ্রহণ করবে কি করবে না–এটা অনিশ্চিত রয়ে যাবে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে গণভোটের চার্টারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তাহের বলেন, ‘ঢাবির ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সময় রাত ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত আমাদের দুঃশ্চিন্তায় ঘুম আসেনি। জাবি নির্বাচনের রায় এসেছে ৪৮ ঘণ্টা পরে। তাহলে দুটি নির্বাচন একসঙ্গে হলে একই ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।’
নির্বাচন কমিশনের আর্থিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি আমাদের নিতে হবে। এটা খুব বড় খরচ নয়, বরং জাতিকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাবে।’
বিএনপির ভিন্ন অবস্থানের প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, ‘মূলত একটি দলেই কিছুটা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি। তারা বলছে সংস্কার মানে, কিন্তু অফিসিয়ালি নোট অব ডিসেন্টও দিচ্ছে। তাহলে জাতিকে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে তারা মানে কি না মানে।’
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘নোট অব ডিসেন্ট কোনো সিদ্ধান্তের অংশ নয়, বরং ব্যক্তিগত মতামতের রেকর্ড। যেমন, হাইকোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চে যদি দুজনের রায় এক হয়, সেটাই সিদ্ধান্ত। একজন নোট অব ডিসেন্ট দিতে পারেন, সেটা শুধু ইতিহাসে থেকে যায়।’
সৈয়দ তাহের স্পষ্ট করে বলেন, ‘জামায়াতের অবস্থান পরিষ্কার–ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে এবং নভেম্বরের মধ্যেই জুলাই চার্টার নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। দেশ স্থিতিশীলতা ও দৃঢ়তার মধ্য দিয়ে সবচেয়ে বেশি জনঅংশগ্রহণমূলক উৎসবমুখর নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে।’


