ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচনের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। নতুন সরকারকে সংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরা স্বাগত জানিয়ে তাদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন টাইমস অব বাংলাদেশের কাছে।
ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম নতুন সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এবার যারা শপথ নিয়েছেন তাদের প্রত্যেকেই ক্লিন ইমেজের। এদের অনেককে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনিও। গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ (১৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত তারা যেভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়েছে এভাবে যদি চালাতে পারে তাহলে আশাবাদী।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ সরকার তাদের বক্তব্যে শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলো রাখবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
নতুন সরকারের কিছু দাবি জানালেন অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু। তিনি বলেন, ‘পেশা হিসেবে অভিনয় সবসময় অবহেলিত। আমরা চাই এ পেশার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। আরেকটা চাওয়া থাকবে শিল্পী কল্যাণ তহবিল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা। এতে পেনশনসহ অনেকগুলো বিষয় রয়েছে, এগুলো যেন নতুন সরকার ঠিকঠাক প্রয়োগ করে।’
চলচ্চিত্র শিল্পে এ মুহূর্তে সিনেমা হলের সংকট চলছে। এ বিষয়টি নিয়ে নতুন সরকার কাজ করবে বলে আশাবাদী প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু। তিনি বলেন, ‘সরকার যদি ৩০০টা সংসদীয় আসনে ৩০০টা সিনেমা হল করে দেয়, তাহলে এ সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’
সিনেমার হলের সংকটের বিষয় সমাধানসহ এ সরকার ‘চলচ্চিত্রবান্ধব’ হবে বলে প্রত্যাশা বুলবুল বিশ্বাসের। এ চলচ্চিত্র পরিচালক বলেন, ‘আমি চাই সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রবিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করুক। যেখানে একজন মেকআপ শিল্পী থেকে শুরু করে, সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং, পরিচালনা, অভিনয় সকল বিষয়ের ওপর পড়াশোনা করা যাবে। কারণ আমরা এখন যারা কাজ করছি তারা তো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ওইভাবে শিখে কাজে আসছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া এ শিল্পের উন্নয়নের জন্য অবকাঠামোগত যেসব উন্নয়ন দরকার সরকার যেন সেগুলো করে। চলচ্চিত্র প্রদর্শন, বিপণনেও সরকারের সহায়তা করা উচিত। অস্কারসহ বিভিন্ন উৎসবে বাংলাদেশে প্রতিবছর ছবি যায়। এসব জায়গায় পুরস্কার পেতে হলে খালি ছবি জমা দিলেই হয় না, নানা ধরণের প্রচারণা করতে হয়। যা অনেক নির্মাতা করতে পারেন না। এ ব্যাপারে সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দসহ অন্যান্য সহায়তা করা উচিত।’
চলচ্চিত্রে অনুদান ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে স্বচ্ছতা আনার দাবিও করেন বুলবুল বিশ্বাস।
নাট্য পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী বলেন, ‘সাধারণ জনগণ হিসেবে আমি নিরাপদ নিশ্চিত জীবন চাই। যেখানে আমি আমার কাজ মন দিয়ে শান্তি মত করতে পারব। যেখানে কোন বাধা আসবে না। জয় হোক বাংলাদেশের।’


