‘ইরানের জন্য ঘড়ি টিকটিক করছে’ বলে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ‘তেহরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর আগে তাদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।’
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, সংক্ষিপ্ত দুই বাক্যের ওই বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ!’
এর একদিন আগেই ট্রাম্প নিজের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি প্রকাশ করেন, সেখানে তাকে একটি সামরিক জাহাজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘এটি ঝড়ের আগের শান্ত মুহূর্ত।’
চলতি মাসে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা চালায়, তবে ইরানি কর্মকর্তাদের ‘পৃথিবীর বুক থেকে উড়িয়ে দেওয়া হবে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন চলমান যুদ্ধে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে বলেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বার বার এমন হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য দিয়ে চলেছেন। তার ইরানবিরোধী এমন সরব অবস্থানের কারণে ইরানও বেঁকে বসছে।
ইরানের কর্তৃপক্ষও এসব বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ট্রাম্পের দাবিগুলোকে অতিরঞ্জিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।
ইরান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের পাঠানো সবশেষ শান্তি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ‘কোনো বাস্তবসম্মত ছাড়’ দেয়নি।
সংস্থাটি আরও অভিযোগ করে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় যেসব ছাড় আদায়ে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে, এখন আলোচনার মাধ্যমে তা আদায়ের চেষ্টা করছে। তাদের মতে, এই কৌশল আলোচনাকে অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দেবে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফজল শাকারচিও ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে হুমকি না দেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
মেহর নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অপমান ঢাকতে যদি তারা আবার কোনো বোকামির পুনরাবৃত্তি করে, তবে তারা জবাবে আরও কঠোর ও বিধ্বংসী আঘাত ছাড়া কিছুই পাবে না।’
ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের সহিংস ভাষা সহ্য করবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
আল জাজিরার যুদ্ধ বিশ্লেষক আলমিকদাদ আলরুহাইদ বলেন, ‘উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে- যুদ্ধবিরতি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।’
তার ভাষায়, ‘এই সব বক্তব্যের আড়ালে একটি বিষয় স্পষ্ট- দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে। উভয় পক্ষ থেকেই কঠোর ভাষা ও কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে। মনে হচ্ছে দুই পক্ষই যেন ট্রিগারে আঙুল রেখে দাঁড়িয়ে আছে।’
তবে পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক অ্যাডাম ক্লেমেন্টস আল জাজিরাকে বলেন, ‘ট্রাম্পের কড়া বক্তব্যের পেছনে “অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণ”ও থাকতে পারে।’
ট্রাম্পের রোববারের পোস্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ইরানকে এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।’
‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিস্ফোরক টুইট ও বক্তব্যের জন্য পরিচিত। অনেক সময় এগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রোতাদের লক্ষ্য করেও দেওয়া হয়। আগামী কয়েক দিনে ট্রাম্পের কর্মকর্তারাও একই ধরনের বক্তব্য দেন কি না এবং এর সঙ্গে সামরিক তৎপরতা বাড়ে কি না, সেটি পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে’, যোগ করেন ক্লেমেন্টস।
তিনি বলেন, ‘হোয়াইট হাউসের সংবাদ দপ্তর অতীতেও এ ধরনের অদ্ভুত ব্যঙ্গচিত্র বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি প্রকাশ করেছে। এ কারণে কখনো কখনো রাজনৈতিক নাটকীয়তা ও প্রদর্শনের বিষয়গুলো পাশ কাটিয়ে প্রকৃত সংকেতগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।’


