দেশ ‘সালাহউদ্দিন কমিশন’ থেকে ‘সালাহউদ্দিন পার্লামেন্টে’ এসে ঠেকেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোওয়ার তুষার।
তিনি বলেছেন, ‘গত দেড় বছরে দেশ সালাহউদ্দিন কমিশন থেকে সালাহউদ্দিন পার্লামেন্টে এসে ঠেকেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ দুটি ব্যালটে ভোট দিয়েছিল–একটি জাতীয় সংসদের জন্য এবং অন্যটি সংস্কার পরিষদের জন্য। কিন্তু সরকার সংস্কার পরিষদ গঠন না করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’
রোববার বিকালে চট্টগ্রামে ১১-দলীয় ঐক্যের আয়োজনে ‘গণভোটের রায় ও জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপির এই নেতা বর্তমান সংসদকে একটি ‘অন্তহীন প্রতারণার কারখানা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘এই সংসদ জুলাই সনদের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে ব্যর্থ হচ্ছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারকে জিম্মি করা হয়েছে দাবি করে তুষার বলেন, ‘একটি “লন্ডন কনসপিরেসি” বা লন্ডন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
তার দাবি, সরকারের ভেতরে বিএনপির ‘গুপ্ত এজেন্ট’ রয়েছে। তিনি বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিএনপির ‘গুপ্ত এজেন্ট’ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রীকে ‘প্রকাশ্য এজেন্ট’ হিসেবে অভিযুক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এই এজেন্টরা প্রধান উপদেষ্টাকে জিম্মি করে লন্ডনে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।’
বক্তব্যে তুষার উল্লেখ করেন, নির্বাচনে বিএনপি ৫১ শতাংশ ভোট পেলেও গণভোটে জনগণ ৭০ শতাংশ ম্যান্ডেট দিয়েছিল। বিএনপি নেতারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বললেও এখন কেন জুলাই সনদের রায় বাস্তবায়ন করছেন না–সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘জনগণ এই সংবিধান বাতিল বা সংস্কারের রায় দিয়েছে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।’
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি সোজা পথে না থাকেন, তবে কীভাবে আঙুল বাঁকা করতে হয় তা ১১-দলীয় ঐক্যজোট জানে।’ অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে কঠোর আন্দোলনের ইঙ্গিত দেন তিনি।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর পরিবেশ বিজ্ঞানী নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন অলি আহমদ এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।


