দেশে হাম ও রুবেলা নির্মূলের লক্ষ্যে পরিচালিত জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
বুধবার বিকালে রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে হাম-রুবেলার এক ডোজ টিকাদান করা হচ্ছে এবং ডিএইচআইএস-২ এর উপাত্ত অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত ১ কোটি ৯০ লক্ষ শিশুর মধ্যে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। মহাপরিচালক এই অগ্রগতিকে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে অভিহিত করেন।
প্রথম ধাপের কার্যক্রমে ৩০টি জেলার ৩০টি উপজেলা এবং ১৩টি পৌরসভায় এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে যেখানে সংক্রমণের হার তুলনামূলক কম বলে পরিলক্ষিত হয়েছে।
টিকা সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান যে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে রুটিন টিকাদান কার্যক্রমের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই ইপিআই রুটিন টিকার নতুন চালান দেশে পৌঁছাবে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ইউনিসেফ, গাভী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ব্র্যাক ও রেড ক্রিসেন্টসহ সকল উন্নয়ন সহযোগীদের নিরলস ভূমিকার জন্য তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ল্যাব সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক স্বীকার করেন, সারা দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ নমুনা আসার ফলে পরীক্ষার ফলাফলে কিছুটা সময়ক্ষেপণ হচ্ছে এবং এখানে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে টিকার কোনো ঘাটতি নেই বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
এ ছাড়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রস্তুতি চলছে এবং শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা দেশবাসীকে জানানো হবে।
২০২৬ সালের হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন শতভাগ সফল করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন যে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কোনো শিশুই এই সুরক্ষার বাইরে থাকবে না।


