মাদারীপুরে কাজ শেষের আগেই ২৫ কোটি টাকার সড়কে খানাখন্দ

মাদারীপুরে কাজ শেষের আগেই ২৫ কোটি টাকার সড়কে খানাখন্দ
মাদারীপুর সদরের পোস্ট অফিস মোড়-মস্তফাপুর সড়কে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই তৈরি হওয়া খানাখন্দ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

মাদারীপুর সদরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে মস্তফাপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাজ শেষ হওয়ার আগে বড় বড় গর্ত, বিটুমিন উঠে যাওয়া এবং ঢালাই ভেঙে রড বেরিয়ে আসার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ ও তদারকির ঘাটতির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সড়ক বিভাগ বলছে, বৃষ্টির কারণে কিছু স্থানে ক্ষতি হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২৫ কোটি ১০ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কটি পুনর্নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। সওজের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড’।

চলতি বছরের মার্চে নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা আগামী নভেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক মাসের মধ্যে সড়কের বিভিন্ন অংশে ত্রুটি দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইটেরপুল বাজার এলাকায় ঢালাইয়ের শুরু ও শেষাংশ মিলিয়ে অন্তত ২৫টি স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সদর থানা রোড-সংলগ্ন অংশে বিটুমিন উঠে গিয়ে সড়ক অসমান হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এতে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হাসান বলেন, ‘নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও তদারকির ঘাটতির কারণে অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে।’

আরও পড়ুন

বাগেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান জানান, নির্মাণকাজের শুরুতে তারা কাজের মান নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তা গুরুত্ব দেননি। এখন এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোস্তাফিজ টুটুল বলেন, ‘নির্মাণকাজ চলাকালে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সড়কের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’

হরিকুমারিয়া এলাকার সিপলু শরীফ, স্বরণ ফকিরসহ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তদারকি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। তারা প্রকল্পের গুণগত মান ও অনিয়ম খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের স্বত্বাধিকারীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিনিধি দাবি করেন, সড়ক মেরামতের কথা বলে সড়ক বিভাগের কিছু কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

এদিকে সমালোচনার মুখে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বিটুমিন, বালু ও ইট দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে সাময়িক মেরামতের কাজ শুরু করেছে।

মাদারীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ. ম. নকিবুল বারী বলেন, ‘প্রকল্পের কাজের মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। বৃষ্টির কারণে কিছু স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সাময়িক মেরামতের কাজ চলছে।’ তিনি জানান, প্রকল্পের শুরুতে তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তাই মূল নির্মাণকাজের মান নিয়ে মন্তব্য করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad