নানান জল্পনা-কল্পনার অবসসান ঘটিয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অস্ট্রেলিয়াতে পরিবারের সাথে দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে রোববার বিকেল ৩টার দিকে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে হাজির হন সাবেক এই অধিনায়ক। শনিবার দিবাগত রাতে সিংগাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ফিরেছেন তিনি।
তিন দিন ধরে মিরপুর স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে জাতীয় দলের তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটারদের নিয়ে বিশেষ ফিটনেস ক্যাম্প। ট্রেনার ইফতেখার হোসেন ইফতির অধীনে এই ক্যাম্পে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজকে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সফরে আসছে কিউইরা। ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে শুরু হবে তাদের সফর।
বেলা ৩টে নাগাদ ফিটনেস ক্যাম্পে ক্রিকেটাররা যখন রানিংয়ে ব্যস্ত, তখন বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুম থেকে বের হয়ে আসেন সভাপতি বুলবুল। সঙ্গে ছিলেন ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট। হেড কোচ ফিল সিমন্সও দাঁড়িয়ে ছিলেন ড্রেসিংরুমের ঠিক সামনে। তাদের দেখে সবার আগে কথা বলতে এগিয়ে যান টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বুলবুলের সাথে করমর্দন করে কথা বলতে দেখা গেছে তাকে। এক পর্যায়ে ট্রেনার ইফতির কাছ থেকেও চলমান ক্যাম্পের খোঁজ নেন বিসিবি সভাপতি।
বুলবুলের দেশে ফেরা নিয়ে গেল ১৬ ফেব্রুয়ারির পর থেকে নানান ধরনের গুঞ্জন শোনা গেছে। ক্রিকেট পাড়ায় এমন আলোচনাও ছিল, বুলবুল হয়তো আর ফিরবেন না। যদিও এর নেপথ্যে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিসিবির সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন নানান কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। সম্ভাব্য কারচুপির অভিযোগ এনে সরে দাঁড়ান ১৯-জন পরিচালক পদপ্রার্থী। সেই জেরে স্থবিরতা কাজ করছে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে। ৪২টি ক্লাব বিসিবির অধীনে বয়কট করেছে সব ধরনের টুর্নামেন্ট। এর মধ্যে বিসিবির সাবেক দুই পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেনের পদত্যাগের পরও শোনা গেছে ভাঙনের সুর।
বিসিবি নির্বাচনের সময় হওয়া নানান অনিয়ম খতিয়ে দেখতে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল-সহ প্রায় ৫০ জন ক্লাব প্রতিনিধি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) চিঠি দেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিসিবি নির্বাচনে কোনো অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কিনা, খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে এনএসসি। ইতোমধ্যে বিসিবির নির্বাচিত পরিচালক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অনেককেই ডেকে সাক্ষাৎকার নিয়েছে তদন্ত কমিটি।
গত ১১ মার্চ এনএসসি জানিয়েছিল, ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে তদন্ত কমিটি। তবে রমজান ও ঈদের ছুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এদিকে গুঞ্জন আছে, অভিযোগ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো প্রমাণ পেলে ভেঙে দেয়া হতে পারে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। বিসিবির এক ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, এমনটা হলে গঠন করা হতে পারে অ্যাড-হক কমিটি।


