ফিফা বিশ্বকাপে ‘আই’গ্রপের ম্যাচে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরাক। আর এই কঠিন লড়াইয়ের আগে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে থামাতে রসিকতার আশ্রয় নিলেন ইরাক কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড। তিনি মজা করে বলেন, ‘এমবাপ্পেকে থামাতে মাঠে একসঙ্গে তিনটি গোলরক্ষক নামাতে চাই।’
ফিলাডেলফিয়ার এই ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে নিজের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমবাপ্পে। প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টে নিজের আগমনী বার্তা দিয়ে রেখেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।
চলতি বিশ্বকাপে জোড়া গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে গেছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে এখন তার গোল সংখ্যা ১৪টি, যা জার্মানির গার্ড মুলারের সাথে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। আর মাত্র একটি গোল করলেই তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন ব্রাজিলের ‘ফেনোমেনন’ রোনালদোকে (১৫ গোল)।
সাংবাদিকরা যখন ইরাক কোচের কাছে জানতে চান এমবাপ্পেকে আটকানোর পরিকল্পনা কী, তখন আর্নল্ড হেসে বলেন, ‘আমি ফিফার কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমরা তিনজন গোলরক্ষক নিয়ে খেলতে পারি কি না। কিন্তু তারা তো না বলে দিয়েছে।’
রসিকতা করলেও গোলপোস্ট সামলানোর ক্ষেত্রে ইরাক কোচকে এখনো একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রথম ম্যাচে নরওয়ের কাছে ইরাকের ৪-১ গোলের হারের ম্যাচে অধিনায়ক জালাল হাসান চারবার গোল হজম করেছিলেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে কে শুরুর একাদশে থাকবেন তা আর্নল্ড এখনো নিশ্চিত করেননি।
কোচ বলেন, ‘ফ্রান্স কীভাবে খেলবে তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তবে আমরা আমাদের নিজেদের খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমি চাই আমার খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে বিশ্বকে দেখিয়ে দিক তারা কী করতে পারে।’
বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ১০০তম ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করা নিয়ে রোমাঞ্চিত ফরাসি অধিনায়ক। এমবাপ্পে বলেন, ‘নিজের দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়াটা সব সময়ই আনন্দের। ১০০ একটি ঐতিহাসিক সংখ্যা এবং বিশ্বকাপের মঞ্চে এই মাইলফলকে পৌঁছানো ম্যাচটিকে বিশেষ কিছু করে তোলে।’
ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় তার স্থান কোথায়–তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। তবে ফ্রান্সের অধিনায়কের এই বিতর্ক নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ নেই। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এটি সমর্থক ও সাংবাদিকদের আলোচনার বিষয়। আমার সমস্ত মনোযোগ এখন আগামীকাল দলকে সাহায্য করা এবং ট্রফিটি দেশে নিয়ে যাওয়ার ওপর।’


