প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি আনোয়ার হোসেনের (৩৮) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের এসআই শাহ মিনহাজ উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। স্থানীয় লোকজনের জবানবন্দি, ভিডিও ফুটেজ এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট ছড়িয়ে দেয়। এর জেরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ জন সেখানে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর কার্যালয়ের গেটের শাটার ও কাচ ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। তারা প্রথমে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ভবনের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে থাকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা কার্যালয়ের বিভিন্ন তলায় থাকা কম্পিউটার, ল্যাপটপ, টেলিভিশন, অফিসের আসবাবপত্র ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। প্রথম আলোর নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বইপত্র লুট করে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া হিসাব বিভাগের সংরক্ষিত চেক, গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজ, ভ্যাট ও করসংক্রান্ত নথি এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন রেকর্ড নষ্ট হয়ে যায়।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, হামলাকারীরা ভবনের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ভেঙে ফেলে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের কাজেও বাধা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রথম আলো কার্যালয়ের প্রায় ৩২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে পত্রিকাটির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। প্রতিষ্ঠার ২৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক দিনের জন্য মুদ্রিত সংস্করণের প্রকাশনা বন্ধ থাকে। পাশাপাশি অনলাইন সংস্করণের কার্যক্রমও দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখতে হয়।
রিমান্ড শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করা, অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয় জানতে আনোয়ার হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।


