সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে ১৫ থেকে ২০ সদস্যের একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি খুব শিগগির গঠন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, ‘সরকারি দল, বিরোধী দল, অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যদেরও কমিটিতে রাখার চিন্তা রয়েছে। তার দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী রোববারের মধ্যেই কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।’
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। এসব প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ওই আদেশ অনুযায়ী বর্তমান সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখার কথা।
সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা ছিল। একই দিনে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নেওয়ারও বিধান ছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সে অনুযায়ী প্রস্তুতি থাকলেও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে পরিষদ গঠন করা যায়নি।
গত রোববার বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারায় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের নোটিস দেন। এ নোটিসের ওপর মঙ্গলবার সংসদে আলোচনা হয়।
সংবিধান সংশোধনে সংসদে থাকা সব দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব আসে সরকারি দলের পক্ষ থেকে। তবে বিরোধী দল কমিটিতে উভয় পক্ষের সমান প্রতিনিধিত্ব চায়। এ প্রেক্ষাপটে জুলাই সনদের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। পরে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান তা সমর্থন করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি ও বিরোধী বেঞ্চ থেকে সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে কমিটি গঠন করা হলে তারা তা ইতিবাচকভাবে দেখবেন।
এ বিষয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি হবে। সেখানে সব দলের প্রতিনিধি আনুপাতিক হারে রাখতে চাই। স্বতন্ত্র সদস্যদেরও রাখা হবে। সবার মতামত নিয়ে দ্রুত কমিটি গঠন করা হবে।’
কমিটির সদস্যসংখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না, তবে ১৫, ১৮ বা ২০ সদস্যের একটি কমিটি হতে পারে।’
সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা এমনভাবে সংবিধান সংশোধন করতে চাই, যাতে বারবার পরিবর্তনের প্রয়োজন না হয়।’
বিরোধী দল বিশেষ কমিটিতে না থাকার ইঙ্গিত দিলে তিনি বলেন, তাদের এ অবস্থান ঠিক হবে না। সংবিধান সংশোধন সবার অংশগ্রহণে হওয়া প্রয়োজন এবং তারা কমিটিতে থাকবে বলে আশা করেন।
এদিকে, সংসদ কমিটির বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধিবেশন কক্ষে উন্নত সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে, যা শব্দ তৈরি হওয়ার এক সেকেন্ডের মধ্যে তা শোষণ করতে পারবে এবং প্রতিধ্বনি থাকবে না। পাশাপাশি ইন্টারনেটের ধীরগতি দূর করার ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।
সংসদ এলাকায় পর্যাপ্ত সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আগামী ১০ তারিখের মধ্যে সংসদ সদস্যদের জন্য বাসা প্রস্তুত করে বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
এর আগে ২৮ মার্চের বৈঠকের পরও চিফ হুইপ জানিয়েছিলেন, এমপিদের আবাসন বরাদ্দের কাজ ১০ এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
সংসদের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো নিয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা হচ্ছে। প্রথম অধিবেশনের শুরুতে সাউন্ড সিস্টেমে বিভ্রাটের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সংসদ ভবন এলাকায় পানি সংকট ও এমপিদের আবাসন বরাদ্দের বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
বুধবারের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কায়ছার আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, অলি উল্লাহ, সাইফুল আলম মিলন এবং আবুল হাসনাত।


