তাইজুলের ৭ উইকেটের দিনে ২৩০ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

তাইজুলের ৭ উইকেটের দিনে ২৩০ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ
১৩৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম, যা দেশের বাইরে কোনো বাংলাদেশির সেরা বোলিং ফিগার। ছবি: সংগৃহীত।
Advertisement
Advertisement

হারারের পেস সহায়ক উইকেটে তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণি জাদু, খুবই অপ্রত্যাশিত ছিল। একাই সাত উইকেট নিয়ে থামিয়েছেন হারারের একমাত্র টেস্টে জিম্বাবুয়ের লিডের চাকা। নইলে ২৭০ অনায়াসেই পেরিয়ে যেতে পারত স্বাগতিকরা। তাইজুলের এই দারুণ পারফরম্যান্সের জন্যই প্রথম ইনিংস ১৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

২৭০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশ অবশ্য দিনের শেষটা করেছে ওপেনার সাদমান ইসলামকে হারানোর অস্বস্তি নিয়ে। শেষ বিকেলে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে রিচার্ড এনগারাভার বলে আউট সাইড এজে সেকেন্ড স্লিপে বেন কারানের হাতে ক্যাচ দেন সাদমান। তবে মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক মিলে দিনের বাকিটা শেষ করেছেন স্কোরবোর্ডে ৪৪/১ নিয়ে। তৃতীয় দিন বাংলাদেশ খেলা শুরু করবে ২৩০ রানে পিছিয়ে থেকে।

৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করা জিম্বাবুয়ে দিনের শুরুতে ব্রেন্ডন টেলরের উইকেট হারালেও কাইয়ার ১৪০ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে নিয়ন্ত্রণ নেয় জিম্বাবুয়ে। তৃতীয় উইকেটে বেনেটের সাথে কাইয়া গড়েন ১০৭ রানের জুটি। যদিও বেনেটকে ফিরতি ক্যাচে আউট করে সেই জুটি ভাঙেন তাইজুল। তার ফ্লাঈটে বিভ্রান্ত হয়ে সেঞ্চুরিয়ান কাইয়া ফ্লিক করতে গিয়ে সিলি মিড অফে ক্যাচ দেন সাদমানের হাতে। ক্রেইগ আরভিন তাকে সুইপ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৬০ রানে ফাইন লেগে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দেন। ৪ রান করা ব্র্যাড ইভান্স তার আর্ম বল মিস করে হয়েছেন এলবিডব্লিউ।

ক্যারিয়ারের ১৯-তম ফাইফার নিশ্চিত করেন নিউম্যান ন্যামহুরিকে তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে। সেই উইকেট পেয়েই হয়ে যান বাংলাদেশের ইতিহাসের যুগ্ম সর্বোচ্চবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়া বোলার, এই তালিকায় আগে থেকেই ছিলেন সাকিব আল হাসান। অবশ্য পাঁচ উইকেট নিয়েই থামেননি তিনি, জিম্বাবুয়ের লিড ৩০০ ছোঁয়ার আগেই তুলে নেন এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানির উইকেট।

আরও পড়ুন

সব মিলিয়ে পেসারদের জন্য সহায়ক উইকেটে তাইজুল নিজের বোলিং শেষ করেছেন ৪০.২-১-১৩৮-৭ ফিগার নিয়ে, যা দেশের বাইরে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা। অ্যাওয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি ছয়বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি, আর সব মিলিয়ে তৃতীয়বারের মতো ইনিংসে সাত উইকেট নিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

তবে রেকর্ড ছাপিয়ে এই ইনিংসে তার বোলিং ফিগার হয়ে রইল তার নিজের ছবি হয়ে। যে কাজটা তিনি দিনের পর দিন, বছরের পর বছর করে আসছেন। টায়ারলেসলি, কমপ্লেইন করা ছাড়া। রিপিটেবল একশনে লম্বা স্পেলে বল করেছেন এই ইনিংসেও, অধিনায়ক শান্ত যতবার ডেকেছেন ততবারই সাড়া দিয়েছেন।

যে উইকেটে হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেনরা দেদারসে রান দিচ্ছেন, মার খাচ্ছেন, সেখানেই তিনি এলেন ত্রাতা হয়ে। জিম্বাবুয়ের সেঞ্চুরিয়ানকে ফিরিয়েছেন, বড় হতে থাকা জুটি ভেঙেছেন, শেষ দিকে গলা কাটা হয়ে ওঠার আগে ছেঁটে দিয়েছেন জিম্বাবুইয়ান টেইল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad