সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারা দেশে নদী ও খাল পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের খুদিরামপুর এলাকায় ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদী পুনঃখনন এবং টাঙ্গাইল পৌর এলাকার নদী তীর প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নদ-নদীর ভূমিকা অপরিসীম হলেও বর্তমানে অনেক নদী ভরাট ও দূষণের শিকার। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা বেশ উদ্বেগজনক।
নদীগুলোতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে কৃষিকাজ সহজ হওয়ার পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, যা স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। এক সময় মানুষ নদী থেকে জীবিকা নির্বাহ করলেও নদীগুলো নাব্যতা হারানোয় এখন সেই সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।
নদী খননের পাশাপাশি তীর সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ লক্ষ্যের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলেও ব্যাপক বনায়ন করা হবে।
এ ছাড়া শিল্পবর্জ্য যাতে নদীতে না পড়ে সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুরো কাজ তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী নদীগুলোর নাব্যতা ফেরাতে কাজ শুরু হয়েছে। নদী দখলদারদের হুশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, কেউ অবৈধভাবে নদী দখল করে থাকলে প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের উচ্ছেদ করা হবে।
আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুর সরবরাহ নিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন, দেশে পর্যাপ্ত গবাদিপশু মজুদ রয়েছে এবং স্থানীয় খামারিরাই এই চাহিদা পূরণে সক্ষম। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রোববার মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করা হবে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবেদুল ইসলাম এবং জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।


