চার দিনের সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছেন কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল প্রতিনিধি ও বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা জোরদারের লক্ষ্যে শার্লি বচওয়ে ঢাকা সফর করবেন।
কমনওয়েলথের তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করবেন এবং এ সময় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সফরকালে মহাসচিব অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনারসহ শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এ সব আলোচনায় বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও সুশাসন, এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কমনওয়েলথের সহযোগিতা কীভাবে আরও বিস্তৃত করা যায়, তা নিয়ে মতামত উপস্থাপন করা হবে।
পাশাপাশি কমনওয়েলথের নতুন কৌশলগত পরিকল্পনাও উপস্থাপন করবেন শার্লি বচওয়ে। এই পরিকল্পনার তিনটি মূল ভিত্তির একটি- গণতান্ত্রিক শাসন। কমনওয়েলথের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে কোন ধরনের সহায়তা সবচেয়ে ফলপ্রসূ হতে পারে সে বিষয়েও তিনি মতামত নেবেন।
সফরের আগে এক বিবৃতিতে শার্লি বচওয়ে জানান, স্বাধীন দেশের মর্যাদা লাভের পরপরই বাংলাদেশ কমনওয়েলথে যোগ দেয় এবং সংগঠনের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নিজেদের তুলে ধরে। তিনি আশা করেন, বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের আগে নানা ক্ষেত্রের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা আরও গভীরভাবে বুঝতে পারবেন এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতার সম্ভাব্য পথ নির্ধারণ করবেন।
তার মতে, কমনওয়েলথ ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দৃঢ় অংশীদারত্ব আগামী নির্বাচনের আগে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংস্থাটির প্রতিশ্রুতি অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
কমনওয়েলথ জানায়, মহাসচিবের এই সফর গত মাসে বাংলাদেশে পাঠানো প্রাক-নির্বাচনী মূল্যায়ন দলের মিশনের ধারাবাহিক অংশ। ওই দলটি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিল।


