ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাবেক প্রক্টর গোলাম রাব্বানীকে বিভাগের চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি ও তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
রোববার উপাচার্যের কার্যালয়ে তারা স্মারকলিপি দেন। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে স্মারকলিপি নেন উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ।
৮ জানুয়ারি প্রকাশিত ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম রাব্বানীর নাম দেখা যায়।
এর আগে, গত ৬ জানুয়ারি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আতাউর রহমান বিশ্বাস মারা যান।
তবে স্মারকলিপি দেওয়া শিক্ষার্থীরা গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর’ ও ‘জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী’ হওয়ার অভিযোগ তোলেন।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানীকে বিভাগের চেয়ারম্যান পদ দেওয়া প্রশাসনের ‘জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘গোলামী রাব্বানী ছিল শিক্ষার্থীদের কাছে একটি আতঙ্কের নাম।’
মুসাদ্দিক বলেন, ‘জুলাই গণহত্যার মামলার আসামি ডাকাত খ্যাত গোলাম রাব্বানীকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণসহ সব ফ্যাসিস্টদেরকে বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি ফ্যাসিবাদের দোসর গোলাম রাব্বানীকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা না হয়, তাহলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায় সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।’
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তিনি ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ৫ এপ্রিল ২০২৩ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দীর্ঘ এই ছয় বছরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিকবার শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া হামলার পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন।
সরাসরি তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, জুলাই গণহত্যার সমর্থনে মিছিল করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে খুনি হাসিনার পাশাপাশি তার নামেও একাধিক মামলা রয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ অবস্থায় বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে তার দায়িত্ব নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলার পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাই আমরা ডাকসু থেকে শিক্ষক এবং চেয়ারম্যান হিসেবে তার অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যত ফ্যাসিস্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে তাদের প্রত্যেককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিচারে মুখোমুখি করার দাবি জানাচ্ছি।


