ঈদে হল মালিকদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে শাকিব খানের ছবি। এবারের ঈদের তার অভিনীত ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’ মুক্তি পেয়েছে। ছবিটির নাম ঘোষণা থেকেই দর্শক ও হল মালিকদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল। চাহিদা অনুযায়ী ১৩৩টি হলে মুক্তিও পায়। কিন্তু বিপত্তি বাধে ডিসিপি ও সার্ভার নিয়ে।
ঈদের দিন সার্ভারজনিত সমস্যার কারণে ছবিটি ৬০টির অধিক সিনেমা হলে সকাল, দুপুরের শো চালাতে পারেনি। আবার স্টার সিনেপ্লেক্সে ডিসিপি (ডিজিটাল সিনেমা প্রজেকশন) ফাইলজনিত সমস্যার কারণে ঈদের প্রথম তিন দিন কোনো শোই চালাতে পারেনি ছবি। সব মিলিয়ে কোটি টাকার উপরে ব্যবসায়িক ক্ষতির হয়েছে প্রযোজনা সংস্থা ক্রিয়েটিভ ল্যান্ডের।
‘প্রিন্স’ প্রযোজক শিরিন সুলতানা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রথম তিন দিন তো আমাদেরকে কোনো শো দেয়নি ডিসিপি ফাইলের সমস্যার কারণে। চতুর্থ দিন দুটা শো দিল তার মধ্যে একটি শো চালাতেই পারেনি। আমাদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা তো হিসেব করে বলা কঠিন, কোটি টাকার উপরে তো হবেই। তবে আমি কৃতজ্ঞ দর্শকদের প্রতি তারা ধৈর্য হারাননি।’
কোনো প্রকার ফরম্যাটিংয়ের কারণে কি ডিসিপি ফাইলে সমস্যা হয়েছিল? এমন প্রশ্নে ছবির পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ বলেন, ‘ঈদের অন্য চারটি ছবি কলকাতারা এডিটএফএক্স থেকে ডিসিপি করিয়েছে। আমরাও সেখান থেকে করিয়েছি। কোন ফরম্যাট বা প্যারামিটারের কারণে সমস্যা হলে আমাদেরটা কেনো হলো? আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদেরকে চার বার ফাইল দিতে হলো।’
হায়াত আরও অভিযোগ করেন, স্টার সিনেপ্লেক্সের রাজধানীর সীমান্ত স্কয়ার শাখায় বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুর ১টা ৫০-এর শোয়ের সময় হুট করে আমাদের ছবিটি বন্ধ করে দেওয়া হল। হল কর্তৃপক্ষ বললো, এসি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা এমনটা করেছেন। এখন আমাদের এ ক্ষতির দায়ভার কে নেবে?
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের ফিনলে স্কয়ার শাখায় শো দিবে, কিন্তু ডিসিপি ফাইল আমাদের নিজেদের পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ওনাদের প্রতিটা হলের জন্য আলাদা আলাদা ফাইল দিতে হচ্ছে। আগে এটা ছিল না।
ডিসিপি ও এসি নষ্ট হয়ে যাওয়া নিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ডিসিপি ফাইল এক সপ্তাহ আগে দেওয়ার কথা। কিন্তু ওনারা দিয়েছেন ঈদের দিন সকালে। তখন সমস্যা ধরা পড়লে তো তা সমাধানে সময় লাগবে। কিন্তু আগে দিলে তো তার সমাধান আগে করা যেত। এখানে তো আমাদের কোনো হাত নেই। আমরা তো তাদের ছবি চালাতে চেয়েছি।’
‘আগে আমাদের হল কম ছিল। এখন সব শাখা মিলিয়ে ২৬টা। এখন ওনারা দেরিতে ফাইল দেওয়ায় আমাদের পক্ষে ওই ফাইল পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।’
মেসবাহ আরও বলেন, ‘এসি নষ্ট হয়ে যাওয়া তো হঠাৎ করে হয়েছে। এতে তো কারো হাত নেই।’
‘প্রিন্স’-এর প্রধান চরিত্রে শাকিব খান ছাড়া আরও আছেন তাসনিয়া ফারিণ ও কলকাতার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু।


