সোনালী ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) পদমর্যাদার ছয় কর্মকর্তাকে বিভিন্ন স্থানে বদলি ও পদায়নের সুপারিশ করেছে জিয়া পরিষদের সোনালী ব্যাংক শাখা।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয় পাওয়ার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় এই সুপারিশ করল বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন জিয়া পরিষদ।
গত বৃহস্পতিবার জিয়া পরিষদের লেটারহেডযুক্ত কাগজে এই সুপারিশপত্র ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রেজাউল করিমের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়।
সুপারিশপত্রে জিয়া পরিষদ সোনালী ব্যাংক শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম আবুল বাশারের নাম ও সই রয়েছে।
সেখানে সোনালী ব্যাংকের পটুয়াখালী প্রিন্সিপাল অফিসের ডিজিএম মো. সেলিম হায়দারকে কুষ্টিয়ার প্রিন্সিপাল অফিসে, কুষ্টিয়া প্রিন্সিপাল অফিসের ডিজিএম মো. নাজমুর হককে পটুয়াখালী প্রিন্সিপাল অফিসে, প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের ডিজিএম মো. আসাদুজ্জামানকে জেনারেল ম্যানেজার’স অফিস নোয়াখালীতে, দিলকুশা কর্পোরেট শাখার ডিজিএম মুহা. মুস্তাফিজুর রহমানকে জেনারেল ম্যানেজারস অফিস রংপুরে, রংপুর প্রিন্সিপাল অফিসের জিডিএম নাসিমাতুল জান্নাতকে জেনারেল ম্যানেজারস অফিস যশোরে ও সিরাজগঞ্জ প্রিন্সিপাল অফিসের ডিজিএম সঞ্জিত কুমার বনিককে খুলনা কর্পোরেট শাখায় বদলি করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে টাইমস অব বাংলাদেশ কথা বলেছে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. শওকত আলী খানের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে যেভাবে প্রভাব বিস্তার করে কর্মপরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে, এগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরা হবে। সরকারের নির্দেশনার আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জিয়া পরিষদের প্যাডে কর্মকর্তাদের বদলির সুপারিশ করতে পারেন কিনা তা জানতে চাইলে পরিষদের সোনালী ব্যাংক শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম আবুল বাশার বলেন, ‘অবশ্যই আমরা সুপারিশ করতে পারি।’
টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি আরও বলেন, যাদের বদলির সুপারিশ করা হয়েছে তারা ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’।
‘এরা বিগত ১৭ বছর আমাদেরকে ঢাকার বাইরে পোস্টিং দিয়ে বিভিন্ন জেলায় জেলায় ঘুরিয়েছে। তাই এখন আমরাও তাদেরকে ঢাকার বাইরে পাঠাতে চাই।’
সুপারিশ সম্বলিত চিঠি ফাঁস হওয়ার পেছনে ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রেজাউল করিমকে দায়ী করেন আবুল বাশার।
তিনি বলেন, ‘রেজাউল করিম বঙ্গবন্ধু পরিষদ সোনালী ব্যাংক শাখার তিন নম্বর প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তিনি এখনো ফ্যাসিস্টদের দোসরদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।’


