ডাকসুর ফলাফলে বিভ্রাটের কারণ ‘মানবীয় অবসাদ’

ডাকসুর ফলাফলে বিভ্রাটের কারণ ‘মানবীয় অবসাদ’
আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ডাকসু। ছবি: সাদিক আল আশফাক/টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ভোটের হিসাবে যেসব ত্রুটি দেখা দিয়েছে, সেগুলো ‘মানবীয় অবসাদের কারণে যোগবিভ্রাট’ বলে জানিয়েছেন ডাকসুর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। এর কারণে নির্বাচিতদের তালিকায় কোনও পরিবর্তন আসেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভোট গণনা শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফল ঘোষণার পর ডাকসু নির্বাচনের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে অংশ নেওয়া লানজু খান এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে অংশ নেওয়া মোহাম্মদ সাকিব ভোট গণনায় গড়মিলের অভিযোগ তোলেন।

এছাড়া নিজের প্রাপ্ত ভোটে অসঙ্গতি থাকার কথা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন সর্বমিত্র চাকমা। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বিজয়ী হন। পোস্টে তিনি জানান, তার ভোট ফল ঘোষণার সময়ের চেয়ে বেড়ে গেছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ডাকসুর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ঘোষিত ও প্রকাশিত ফলাফল চূড়ান্ত ও অপরিবর্তিত আছে। আটটি কেন্দ্রের ভোট যোগ করে ডাকসুর সমন্বিত ফলাফল তৈরির সময় দীর্ঘ বিরতিহীন কর্মসম্পাদনজনিত মানবীয় অবসাদের কারণে সামান্য কয়েকটি ক্ষেত্রে যোগবিভ্রাট ঘটে।’

আরও পড়ুন

এই ‘অনিচ্ছাকৃত’ ত্রুটির জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখিত উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রকাশিত কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের ভিত্তিতে ডাকসুর সমন্বিত ফলাফল সংশোধন করা হয়েছে। এই সংশোধনীর কারণে নির্বাচিতদের তালিকায় কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়। এ সময় আচরণ বিধিলঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন প্যানেলের পক্ষ থেকে।

নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। পাঁচ ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ ভোটের বিপরীতে ১৩ ছাত্র হলে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৯১৫ জন।

ডাকসু নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটগ্রহণ। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস

ডাকসুতে ২৮টি পদের জন্য মোট ৪৭১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে ১৮টি হলে মোট পদের সংখ্যা ২৩৪টি। এসব পদে ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন এক হাজার ৩৫ জন। সব মিলিয়ে এবার ভোটারদের ৪১টি ভোট দিতে হয়।

এই নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় সংসদের মোট ২৮টির মধ্যে ২৩টি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ৫টির মধ্যে ৪টি জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, আরেকটি জিতেছেন বাম জোট সমর্থিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ এর প্রার্থী হেমা চাকমা।

নির্বাচনে ভিপি পদে শিবিরের মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), জিএস পদে এস এম ফরহাদ ও এজিএস পদে মহিউদ্দিন খান বিজয়ী হন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad