নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সহায়তা দিতে ছাত্রশিবিরের করা ‘হেল্প ডেস্ক’ ভাঙচুরের অভিযোগ তোলা হয়েছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।
হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা।
সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আকরাম হোসেন ও জেলা সেক্রেটারি হাসিবুল ইসলাম সিফাত রবিবার এক যৌথ বার্তায় বলেন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মঠেরঘাট মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সহায়তা দিতে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করে ছাত্রশিবির। এ সময় স্থানীয় ছাত্রদল নেতা চঞ্চল মিয়া, মাহবুব ভূঁইয়া, লিখন প্রধানসহ ২০-২৫ জনের একটি দল শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা এলোপাতাড়ি মারধর, ভয়ভীতি ও হুমকির পাশাপাশি ছাত্রশিবিরের হেল্প ডেস্ক ভাঙচুর করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ কার্যক্রম পরিদর্শনে আসা নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক বেলাল হোসাইন এবং দায়িত্বপালনরত ছাত্রশিবির জনশক্তিরা আহত হন।
শিক্ষার্থীদের সেবামূলক কার্যক্রমে ‘সন্ত্রাসী কায়দায়’ এমন হামলা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সহাবস্থানের ছাত্ররাজনীতির পরিপন্থী বলেই উল্লেখ করা হয় বার্তায়।
তারা আরও বলেন, প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই ছাত্রশিবির নীতিনৈতিকতা, আদর্শিক মূল্যবোধ ও ছাত্রকল্যাণভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তার ধারাবাহিকতায় ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন আনতে ছাত্রশিবির কাজ করে যাচ্ছে। অথচ ছাত্রদল পেশিশক্তি ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো এবং শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ ধ্বংসের ঘৃণ্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই উগ্র আচরণের কারণে ছাত্রসমাজ ইতোমধ্যেই তাদের প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করেছে।
‘পেশিশক্তি ও সন্ত্রাসী হামলা’ কোনোভাবেই ছাত্রশিবিরের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না উল্লেখ করে বার্তায় বলা হয়, ‘যদি ছাত্রদল এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিহার না করে, তবে তাদেরকেও ছাত্রলীগের পরিণতি বরণ করতে হবে।’
এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয় বার্তায়।


