বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘গ্র্যান্ড লঞ্চিং ইভেন্ট অব টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, টেকসই এখন আর কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং এটি এই শিল্পের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যতে টিকে থাকার অপরিহার্য শর্ত।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত উল্লেখ করে তিনি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির মতো মূল্যবান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। এ লক্ষ্যে শিল্পকারখানায় শক্তি সাশ্রয়, পানির পুনঃব্যবহার, সার্কুলার উৎপাদন ব্যবস্থা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উল্লেখ করেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্প গত কয়েক দশকে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করলেও রপ্তানি এখনো মূলত সীমিত কিছু পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়তে স্পোর্টসওয়্যার, ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক এবং টেকনিক্যাল টেক্সটাইলসহ উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের বাজারে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে পণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার অনুসন্ধানে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে গবেষণা, নকশা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন।
সরকারের বন্ধ শিল্পকারখানা পুনঃব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, পুরোনো যন্ত্রপাতি অপরিবর্তিত রেখে কোনো অকার্যকর কারখানায় অর্থ অপচয় করা হবে না। বরং শিল্পভেদে উপযোগী সমাধানের মাধ্যমে কোথাও শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হবে, আবার কোথাও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা লিজের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হবে।
এই প্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও শিপবিল্ডিংসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেন তিনি।
টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাণিজ্য ও বস্ত্র মন্ত্রী বলেন, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের টেক্সটাইল শিল্প আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে এবং এ ধরনের দূরদর্শী উদ্যোগে সরকার সবসময় পাশে থাকবে।
আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইনোভেশন টেক্সটাইল এক্সচেঞ্জ’ প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করেন এবং প্রদর্শিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনামুল হক খান, ইঞ্জিনিয়ার আইউব নবী খান, মো. আব্দুল হামিদ এবং ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মো. হাসিব উদ্দিন ও তারেক আমিন এবং সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়ছার।


