ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস বলেছে, তারা বাকি সকল ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের গাজা শান্তি পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর আরও আলোচনা চায়।
বিবিসির লাইভ নিউজে এ কথা জানানো হয়।
হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল এক্স পোস্টে বলা হয়েছে, এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘হামাস কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত বিবৃতির ভিত্তিতে, আমি বিশ্বাস করি তারা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত। ইসরায়েলকে তৎক্ষণিকভাবে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে, যাতে আমরা বন্দীদের দ্রুত এবং নিরাপদে মুক্ত করতে পারি… এটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত শান্তির ব্যাপারে।’
সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
বিবিসি জানায়, এর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণে হামাসকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। রোববার ওয়াশিংটন সময় সন্ধ্যা ৬টার (বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৪টা) মধ্যে চুক্তি না হলে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘এটি শেষ সুযোগ। যদি সমঝোতা না হয়, তবে হামাসের বিরুদ্ধে এমন নরক নেমে আসবে যা কেউ আগে কখনো দেখেনি। একভাবে বা অন্যভাবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবেই।’
এরই জেরে হামাস যুদ্ধ বিরতিতে তাদের সম্মতির কথা জানাল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে ঘোষিত এই ২০ দফা পরিকল্পনায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, হামাসের হাতে থাকা জীবিত ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তি এবং নিহতদের মরদেহ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেবে ইসরায়েল।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আরব ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা হামাসকে রাজি করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান নতুন মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। কাতারে অবস্থানরত রাজনৈতিক নেতৃত্ব আংশিক সংশোধন সাপেক্ষে সমর্থন জানাতে আগ্রহী হলেও, তাদের হাতে জিম্মিদের নিয়ন্ত্রণ নেই।
পরিকল্পনার একটি বড় শর্ত হলো, যুদ্ধবিরতির প্রথম ৭২ ঘণ্টায় সব জিম্মিকে ছেড়ে দিতে হবে। হামাসের অনেকে এটিকে নিজেদের একমাত্র চাপ প্রয়োগের কৌশল হারানো হিসেবে দেখছে।
ধারণা করা হচ্ছে, গাজায় বন্দি মোট ৪৮ জনের মধ্যে ২০ জন জীবিত রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে সোমবার ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়, হামাসকে গাজা শাসনে কোনো ভূমিকায় রাখা হবে না। তবে ভবিষ্যতে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা খোলা থাকবে।



