জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রস্তাব করেছে কানাডা সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক হুমকির প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার দেশটির পার্লামেন্টে বিল ‘সি-৩৫’ নামে প্রস্তাবিত আইনটি উত্থাপন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সংসদীয় সচিব রব অলিফ্যান্ট।
তিনি বলেন, এটি একটি ‘কানাডীয় সমাধান’, এটি আন্তর্জাতিক সমস্যা মোকাবিলায় তৈরি করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনের অধীনে সুনির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের একটি সার্বজনীন তালিকা প্রকাশ করা হবে। কানাডার দূতাবাস, গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সরকারি সূত্রের ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি হবে। তালিকাভুক্ত অঞ্চল থেকে পণ্য আমদানি করলে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকেই প্রমাণ করতে হবে যে তাদের পণ্য জোরপূর্বক শ্রম বা আধুনিক দাসত্বের মাধ্যমে তৈরি হয়নি।
বর্তমানে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি ঝুঁকি মূল্যায়ন ও এলোমেলো বাছাইয়ের মাধ্যমে কনটেইনার পরীক্ষা করে। নতুন আইন কার্যকর হলে সীমান্ত কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের তালিকা ধরে তল্লাশি চালাতে পারবেন। সরকার জানায়, এই আইন কানাডাকে মেক্সিকো ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রস্তাবিত নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।
রব অলিফ্যান্ট বলেন, ‘জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি সস্তা পণ্য কানাডার বাজারে ঢুকুক, আমরা তা চাই না।’
বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি অব কানাডার পররাষ্ট্রবিষয়ক সমালোচক মাইকেল চং বিলটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।
প্রস্তাবিত বিলটি এখন সংসদীয় পর্যালোচনা ও জনপরামর্শের মধ্য দিয়ে যাবে। গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে মানবাধিকার ও ন্যায্য বাণিজ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


