জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার বিকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা এইজন্য ডেকেছিলেন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় একটা ফাইনাল স্টেজে আমরা আছি। মোটা দাগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে মনে হয় আমরা এগোতে পেরেছি।’
গণভোটের প্রস্তাব প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা সকল রাজনৈতিক দল মিলে সমগ্র জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করি কি না—এটা একটা প্রশ্ন। তাই জনগণের কাছে যদি সম্মতি নেওয়া যায় যে আমরা যারা জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করেছি, অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি—জনগণ তার পক্ষে আছে কি না, তখনই হবে জনগণের পক্ষ থেকে এই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটা চূড়ান্ত অভিমত।’
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, গণভোটের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘গণভোটের যে আর্টিকেল ১৪২ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার উড়িয়ে দিয়েছিল, সেটা হাইকোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে ফিরে এসেছে। এখন সংবিধানের আর কোথাও গণভোট বাধা করা যাবে না এমন কোনো বিধান নেই। সুতরাং একটা অর্ডিন্যান্স জারি করে নির্বাচন কমিশনকে এখতিয়ার দেওয়া যেতে পারে একই দিনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি আলাদা ব্যালটে রেফারেন্ডাম করার জন্য।’
‘গণভোটের মাধ্যমে যে জনরায় আসবে সেটা সার্বভৌম ক্ষমতার একটা রায়। সুতরাং সমস্ত সংসদ সদস্য সেটা মানতে বাধ্য হবেন,’ যোগ করেন বিএনপির এই নেতা।
যদি আগামী সংসদে জুলাই সনদের বিরোধী এমপিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়, তবে কি তারা গণরায় মানতে বাধ্য থাকবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জনরায় হচ্ছে চূড়ান্ত। সংসদ সদস্যরা সেটা মানতে বাধ্য।’
বৈঠকে জুলাই সনদের বিভিন্ন ধারার ওপর নোট অব ডিসেন্ট থাকা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ প্রণীত হবে, স্বাক্ষরিত হবে, অঙ্গীকারনামায় সবাই সই করবে, ওয়েবসাইটে যাবে। দলগুলোর ইশতেহারে থাকবে। জনগণ জানবে জুলাই সনদে কী আছে। যারা ম্যান্ডেট পাবে, তারা তাদের নোট অব ডিসেন্ট অনুসারে যেতে পারবে।’


