বাংলা সিনেমার গল্পে যখনই নায়ক-নায়িকার প্রেমে জটিলতা আনতে হয়, তখনই হাজির হন খলচরিত্রের অভিনেতারা। ঠিক এমনই একজন চেনা মুখ ‘ফকিরা’। প্রথম সারির খলনায়ক না হলেও, ছোট ছোট চরিত্রে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় ৭০০-এর বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। একসময় ছিলেন চলচ্চিত্রের ব্যস্ততম পার্শ্ব-অভিনেতাদের একজন। তবে বর্তমানে কঠিন জীবনসংগ্রামে দিন কাটছে তার।
৬৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা গত এক বছর ধরে প্রায় বাকরুদ্ধ। তিনবার স্ট্রোক করার পর তার শারীরিক অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন। বর্তমানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের বাসায় চার দেয়ালের মাঝে আবদ্ধ জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
আশির দশকে চলচ্চিত্রে পা রাখেন ফকিরা। অভিনয়ের পাশাপাশি অ্যাকশন দৃশ্যে পারদর্শিতার জন্যও আলাদা পরিচিতি ছিল তার। রাজ্জাক, আলমগীর, সালমান শাহ, মান্না, রিয়াজ, এমনকি শাকিব খানের সঙ্গেও বহু সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
যারা নিয়মিত বাংলা সিনেমা দেখেন, তাদের কাছে ফকিরা এক পরিচিত ও প্রিয় মুখ। এক সময় এফডিসিতে সাদা মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া-আসা করতেন তিনি—যেটি সালমান শাহর একাধিক সিনেমাতেও ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু করোনার পর থেকে তিনি চলচ্চিত্র থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
দু’দিন আগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান দেখতে যান ফকিরাকে। তিনি জানান, “ফকিরা ভাই প্রায় এক বছর ধরে অসুস্থ। কথা বলতে পারেন না, শুধু চোখে পানি ফেলেন। মাঝে মাঝে শিশুর মতো আচরণ করেন। তবে মানুষ চিনতে পারেন। মিশা ভাইকে ভিডিও কলে দেখে হাত নাড়িয়েছিলেন।”
ফকিরার পরিবার জানিয়েছে, ঢাকার একাধিক হাসপাতালে তার চিকিৎসা করানো হলেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। সংসার চালানো ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারকে।
চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়ার আগে মোহাম্মদপুরে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করতেন ফকিরা। বর্তমানে তার স্ত্রী, এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। ছোট চরিত্রে অভিনয় করলেও সবসময় নিজেকে পরিপাটি ও ফ্যাশনেবলভাবে উপস্থাপন করতেন তিনি।
ফকিরার এই কঠিন অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। শনিবার সমিতির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সনি রহমান।


