সরকারি দল বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
শুক্রবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর সংসদ ট্যানেলের গেইটে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের ১২ মার্চ ১৩৩টি জারি করা অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হয়। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এগুলো পাশ করার নিয়ম রয়েছে। এগুলো নিয়ে স্পিকার সরকার দলীয় এমপি জয়নুল আবেদীনকে প্রধান করে একটি কমিটি করেন। যাতে বিরোধীদলের সদস্যও ছিল। কিন্তু বিরোধী দলের সদস্য ছাড়াই প্রথম মিটিংয়ে সরকার দলীয় সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। সেখান থেকেই সমস্যা শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সংসদে সবগুলো অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়নি। শুক্রবারও সংসদ বসেছে। আজ শেষ দিন ছিল। আমরা সবগুলোর বিলের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। এরমধ্যে গণভোট অধ্যাদেশ, গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, পিএসসি কমিশনসহ অনেকগুলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন না করে ল্যাপস করে দিয়েছে। তারা বলছে পরে উত্থাপন করা হবে। কিন্তু তারা আজকের সংসদেই যখন এগুলো উপস্থাপন করলো না তখন তারা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। তাদের ওপর আমাদের আর আস্থা নেই।’
বিরোধীদলীয় নেতা প্রশ্ন তোলেন, ‘সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেছেন তিনিও সংশোধনীর বিষয়ে আগে জানতেন না। তাহলে কে জানে? কোন জায়গা থেকে কলকাঠি নাড়ানো হচ্ছে?’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদে বিলের ব্যাপারে অন্তত একদিন আগে কাগজপত্র দেওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের সংসদে বসে একের পর এক বস্তা বস্তা কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। সেগুলো আমরা পড়ে দেখারও সময় পায়নি। তাহলে আমরা কিভাবে মতামত দেব?’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে যেগুলো তাদের পক্ষে যায় সেটি তারা পাশ করছে। জাতির সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেছেন জুলাই আন্দোলনের ক্যাপ্টেনের হাতে মুহাম্মদ ইউনুস লন্ডনে গিয়ে ট্রফি দিয়ে এসেছেন। ট্রফি যদি ওখানেই দিয়ে থাকেন তাহলে কিসের নির্বাচন? তাহলেতো নির্বাচনের ভাগ্য যোগাযোগ করে অন্তরালে ঠিক করে জাতিকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘তারা সবগুলো বিল সংশোধনে আনেনি। নির্ধারিত সময় শেষ করে দেওয়ার অপকৌশল নিয়েছে তারা। এজন্যই আমরা ওয়াকআউট করেছি।’
এর আগে বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ থেকে অন্তবর্তী সরকারের অনেকগুলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বিলে পরিণত করাসহ অনেকগুলো বিষয়ে বিএনপি সরকার ওয়াদাভঙ্গ করেছে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল আইনে পরিণত করা নিয়ে ওয়াদাভঙ্গ হয়েছে। ৯৮টি অধ্যাদেশ ছিল যেগুলো নিয়ে সবাই ঐক্যমত ও সমঝোতা হয়েছিল। কয়েকটাতে নোট অব ডিসেন্ট ছিল। সব আলোচনা করে আমরা পাশ করার বিষয়ে একমত হই এবং সংসদে পাশ করা হয়। আজকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল নিয়ে কাউকে না জানিয়ে মাত্র আধাঘণ্টা আগে সংশোধনী এনে পাশ করা হয়েছে। এছাড়া আরো ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন না করে সরকার ওয়াদাভঙ্গ করেছে।


