জামায়াত কীভাবে স্বাধীনতার ইতিহাস বলে, নাউজুবিল্লাহ: সালাহউদ্দিন

জামায়াত কীভাবে স্বাধীনতার ইতিহাস বলে, নাউজুবিল্লাহ: সালাহউদ্দিন
কক্সবাজার শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের নির্বাচনী জনসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী নতুন করে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস বয়ান করা শুরু করেছে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেনি, স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, মা-বোনদের পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করেছে, তারা কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার ইতিহাস বলে, নাউজুবিল্লাহ।’

শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে (গোল চত্বর) কক্সবাজার-৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপির একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে দেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য। পাশাপাশি গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে দলের।’

তিনি বলেন, ‘যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন আমাদের সন্তানরা দেখেছিল, যাদের অনেকে চব্বিশের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছে—আমরা সেই স্বপ্ন ধারণ করি।’

কক্সবাজারে ব্লু-ইকোনমি বিকাশের লক্ষ্যে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘রাব্বুল আলামিন কক্সবাজারকে দিয়েছেন পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ, প্রশস্ত সমুদ্র সৈকত, যা আর কোথাও নেই। এই সমুদ্র সম্পদকে আমরা পর্যটনের বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

আরও পড়ুন

তিনি জানান, বিএনপি সরকারের আমলেই কক্সবাজারে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ ১৭ বছর পর সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এসেছে। এই বন্দর ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার একটি অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আরও সম্প্রসারণের কথাও বলেন তিনি।

কক্সবাজারে খাস জমি ও পিএফ জমিতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করা হবে না বলে আশ্বাস দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সবার সঙ্গে পরামর্শ করেই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া তিনি লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কক্সবাজার–চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণাও দেন।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল। আরও বক্তব্য দেন তার সহধর্মিণী শিরিন রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, কক্সবাজার পৌর বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল হুদা চৌধুরীসহ জেলা ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

শুক্রবার দুপুর ২টা থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভাস্থলে জড়ো হন। আয়োজকরা জানান, সমাবেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে দেড় লাখের বেশি মানুষের উপস্থিতি ঘটে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad