ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ছায়াযুক্ত পরিত্যক্ত জমিতে হলুদ চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন কৃষক জামির মিয়া। পরিকল্পিত উদ্যোগ আর সঠিক পরামর্শে যে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব, নাটঘর ইউনিয়নের একইছড়া গ্রামের এই কৃষক তা হাতে-কলমে প্রমাণ করেছেন। তার এই সফলতা দেখে এখন এলাকার অনেক কৃষকই মিশ্র মশলা বাগান ও ছায়াযুক্ত জমিতে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
জামির মিয়ার এই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসের সুনিপুণ নির্দেশনা। উপসহকারী কৃষি অফিসার ফারুক আহমেদের পরামর্শে ‘ফ্ল্যাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি এসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় তিনি তার মিশ্র মশলা বাগানে ‘বারি হলুদ-১’ জাতের হলুদ আবাদ শুরু করেন। সচরাচর ফল গাছের ছায়ার নিচের জমি অব্যবহৃত পড়ে থাকে। জামির মিয়া সেখানে হলুদ চাষ করে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন।
মাত্র ১৫ শতাংশ জমিতে হলুদ আবাদ করে প্রায় ২০ মণ কাঁচা হলুদ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন জামির মিয়া। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা হলুদ গড়ে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসাবে তার মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা। স্বল্প খরচে এবং অল্প পরিশ্রমে এমন ভালো মুনাফা আসায় এই চাষ এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে বেশ লাভজনক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা জানিয়ে জামির মিয়া বলেন, তার প্রয়াত পিতা হিরণ মিয়ার আগ্রহেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। গত বছরের মার্চ মাসে ৬০ কেজি হলুদের বীজ বপন করার ঠিক দশ মাস পর এই আশানুরূপ ফলন পেলেন তিনি।
বাগান থেকে নিয়মিত ফসল আহরণের পাশাপাশি একই জমিতে ছায়ার মধ্যে হলুদের এমন ফলন দেখে তার প্রতিবেশীরাও এখন বেশ উৎসাহিত।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, আদা ও হলুদ আংশিক ছায়া সহনশীল ফসল হওয়ায় আম, লিচু বা কাঁঠাল বাগানে এগুলোর আবাদ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও টেকসই ফসল নির্বাচন করা জরুরি। জামির মিয়ার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক ব্যবস্থাপনায় পরিত্যক্ত জমিও মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।
কৃষক জামিরের এই উদ্যোগ এখন নবীনগর এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় প্রায় ১৫ বিঘা ছায়াযুক্ত জমিতে আদা ও হলুদের আবাদ হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের চাষাবাদ আরও বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, তেমনি দেশীয় মশলার উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে আমদানি নির্ভরতাও অনেক কমে আসবে।


