স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আচরণবিধির খসড়ায় পোস্টার নিষিদ্ধ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আচরণবিধির খসড়ায় পোস্টার নিষিদ্ধ
নির্বাচন ভবন। ছবি: শামীম-উস-সালেহীন / টাইমস
Advertisement
Advertisement

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। খসড়ায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার, মাইক ও যানবাহন ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বুধবার ইসি তাদের ওয়েবসাইটে খসড়াটি প্রকাশ করে। একই সঙ্গে দেশের ৫৬টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে ই-মেইলে পাঠিয়ে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে মতামত দিতে অনুরোধ জানিয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন-এই পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য পৃথক আচরণবিধি থাকলেও এবার প্রায় একই ধরনের বিধান রেখে খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট বা অন্য কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে প্রচার শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্য আবশ্যিকভাবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে। তথ্য জমা না দিয়ে কোনো প্রচারণা চালানো যাবে না।

নির্বাচনী প্রচারণায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যাবে না-এমন বিধান রেখে খসড়ায় বলা হয়, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুল তথ্য, কারো চেহারা বিকৃত করা ও নির্বাচন সংক্রান্ত বানোয়াট তথ্যসহ কোনো প্রকার ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না।

খসড়ায় আরও উল্লেখ আছে, জাতি, ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, লিঙ্গ বা সম্প্রদায়ের ওপর ভিত্তি করে কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক আক্রমণ বা উস্কানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা যাবে না।

আরও পড়ুন

ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য কিংবা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কোনো প্রার্থীর চরিত্র হনন বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে সাধারণভাবে, এডিট (সম্পাদনা) করে কিংবা এআই দ্বারা কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ এবং মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ, প্রচার ও শেয়ার করা যাবে না।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার না করার বিধান রেখে নীতিমালা তৈরি করতে যাচ্ছে ইসি।

আচরণবিধির খসড়াতে বলা হয়, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে প্রচারপত্র, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিকের মতো অপচনশীল দ্রব্য বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদান দিয়ে এগুলো তৈরি করা যাবে না।

নির্বাচনী প্রচারকালে কোনো ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেন কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহন সহকারে মিছিল বা মশাল মিছিল বের করা যাবে না এবং কোনো প্রকারের শোডাউন বা মহড়া করা যাবে না।

নির্বাচনী প্রচারকাজে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত চৌহদ্দির (সীমানা) মধ্যে মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ থাকবে।

তবে নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়াসে যানবাহনের চারপাশে ডিজিটাল প্রযুক্তি বা সাধারণ পচনশীল সামগ্রী ব্যবহার করে তৈরি ‘ক্যারাভান’ বা ভ্রাম্যমাণ বাহনের মাধ্যমে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে। তবে এই প্রচারের কারণে যেন যান চলাচলে বিঘ্ন বা জনদুর্ভোগের সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

খসড়ায় বলা হয়, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা সংস্থা একটি ওয়ার্ডে পথসভা বা নির্বাচনী প্রচারের কাজে একের অধিক মাইক্রোফোন বা শব্দবর্ধনকারী যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না।

এছাড়া দুপুর ১২টার আগে ও সূর্যাস্তের পর কোনোভাবেই মাইক বা শব্দবর্ধনকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহৃত মাইক বা সাউন্ড সিস্টেমের শব্দের মানমাত্রা কোনোভাবেই ৬০ ডেসিবেলের অতিরিক্ত হতে পারবে না।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad