দেশের বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে লাগামহীন দুর্নীতি, লুটপাট এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে অর্থনীতির মূল ভিতকে চরমভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বর্তমান সরকারের নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী সাবেক ক্ষমতাসীনদের তীব্র সমালোচনা করেন এবং অর্থ পাচার রোধ ও পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।
বাজেট উপস্থাপনার সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে ক্ষুদ্র দলীয় ও গোষ্ঠীগত দুরভিসন্ধির কারণে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ-সম্পদ দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে মুষ্টিমেয় লুটেরাদের হস্তগত হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
এর ফলে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি তথা দেশের ‘অর্থনৈতিক ইঞ্জিন’ একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অত্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’
বাজেট প্রস্তাবে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সুনির্দিষ্ট নীতি-কৌশল তুলে ধরে জানানো হয়, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে।
এ লক্ষ্যে খেলাপি ঋণ হ্রাস, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক পরিচালনায় রাজনৈতিক নিয়োগ ও হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বন্ধ করার আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ পাচার প্রতিরোধের অংশ হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ব্যবস্থাকেও সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কর ফাঁকি রোধে এবং রাজস্বের অপচয় বন্ধ করতে কর ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনা হবে, যা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ করতে ভূমিকা রাখবে।
সরকার আশা প্রকাশ করছে, ঋণ-নির্ভরশীল প্রবৃদ্ধির ধারা থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত করা সম্ভব হবে।


