বাংলাদেশে সাশ্রয়ী আবাসনে এডিবির ১০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ

বাংলাদেশে সাশ্রয়ী আবাসনে এডিবির ১০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) লোগো। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার, বিশেষ করে নারীদের জন্য সাশ্রয়ী ও দুর্যোগ-সহনশীল আবাসন অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহজশর্তের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

এডিবির ইনক্লুসিভ অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ফাইন্যান্স প্রজেক্ট-এর আওতায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং যোগ্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফআই) মাধ্যমে এ অর্থায়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় পরিবারগুলো বাড়ি নির্মাণ, মেরামত ও উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও জামানতহীন ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা পাবে।

এডিবি জানিয়েছে, অনানুষ্ঠানিক আয়ের কারণে যেসব পরিবার প্রচলিত ব্যাংক ও বন্ধকি ঋণ ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে না, তাদের আবাসন অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করাই প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দেশে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়তা করা হবে।

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, মানুষের মর্যাদা, সুযোগ ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো আবাসন। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে, বিশেষ করে নারীদের, নিরাপদ ও দুর্যোগ-সহনশীল বাড়িতে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে প্রকল্পটি দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং মানব উন্নয়নে অবদান রাখবে।

২০৩১ সালের মধ্যে ৪০ হাজার পরিবার ঋণ পাবে

এডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে প্রকল্পটির আওতায় অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩২ হাজার নারী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ২৪ হাজার ঋণগ্রহীতা থাকবেন।

আরও পড়ুন

প্রকল্পের আওতায় ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক ও ভূমি-সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসন অধিকার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নারীদের আবাসন নিরাপত্তা বাড়াতে ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীদের বসবাসের হিসাব যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বন্যা-ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সহনশীল বাড়ি

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পে বাড়ির নকশা, নির্মাণ এবং দুর্যোগ-সুরক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত করা হবে। এর ফলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম আরও টেকসই ও স্থিতিস্থাপক বাড়ি নির্মাণে সহায়তা পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া পিকেএসএফ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে উন্নত তথ্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ-ঝুঁকি যাচাই, ঋণপোর্টফোলিও পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ উদ্যোগ দেশের আবাসন অর্থায়ন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতেও সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে এডিবি।

জলবায়ু অভিযোজনে ৪০ মিলিয়ন ডলার

এডিবির অনুমোদিত অর্থায়নের মধ্যে ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন হিসেবে দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে ছয় লাখ মার্কিন ডলারের কারিগরি সহায়তা অনুদান দেওয়া হবে।

এডিবি ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্যদেশের সংখ্যা ৬৯টি, যার মধ্যে ৫০টি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের। টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দুর্যোগ-সহনশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সংস্থাটি সদস্যদেশগুলোকে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র ‍ও কুটির শিল্প বিকাশে ১০০ মিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad