পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি লঙ্ঘনসহ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার এবং একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন রাঙামাটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সোমবার সকালে রাঙামাটি শহরের সারারাং রেস্টুরেন্টে পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যোগ্য, সৎ ও দক্ষ সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ায় পার্বত্যবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি নন, এমন মীর হেলাল উদ্দিনকে একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের দাবি অনুযায়ী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে স্বপদে পুনর্বহাল না করে সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে। তবে তাকে কক্সবাজারে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিনকে তিন পার্বত্য জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বক্তাদের অভিযোগ, সরকারের এ সিদ্ধান্ত পার্বত্য এলাকার বিশেষ আইন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
এ ছাড়া পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোও শতভাগ দলীয় ও জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের দিয়ে পুনর্গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের পদক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি এবং এ অঞ্চলের সমস্যা ও আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা বা সমঝোতা না করেই সরকার নিজেদের উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানে তিনটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছে। এসব কমিটির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ মেনে নেবে না। তারা কমিটিগুলোর কার্যক্রম স্থগিতের দাবি জানান।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি ও সাবেক উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহসভাপতি ভবতোষ দেওয়ান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলার সভাপতি নব কুমার চাকমা, ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীর সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা, সমাজসেবক মধুমঙ্গল চাকমা ও নাগরিক সমাজের ইন্টুমনি তালুকদার।


