জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চিকিৎসাকেন্দ্রে ২১ দিনে ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের হিসাব না মেলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে চিকিৎসাকেন্দ্রের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন করেছেন তারা।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সামনে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের সাধারণ চিকিৎসাসেবার জন্য সরবরাহ করা প্রায় ৭৩ হাজার টাকা মূল্যের ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। সংগঠনটির দাবি, চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তদের তথ্য অনুযায়ী এ ঘটনায় বিপুল পরিমাণ গরমিল ধরা পড়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলে এ ধরনের ঘটনা কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি নয়; বরং এটি একটি প্রকাশ্য দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ। সংগঠনটি ওষুধ গায়েব ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গত সময়ের সব হিসাব-নিকাশ নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানায়।
মানববন্ধনে বক্তারা চিকিৎসাকেন্দ্রের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, ওষুধ কারচুপির অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রটির ব্যর্থতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি জাকসুর খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ও উদাসীনতার অভিযোগও তোলেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সোমা ডুমরি, ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম আবর্তনের বিশ্বজিৎ রায়, ইংরেজি বিভাগের ৫৪তম আবর্তনের ওয়ালি মাসুদ এবং অর্থনীতি বিভাগের ৫২তম আবর্তনের নাযিহা নাওয়ার। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম ফারাবী।
বক্তারা অবিলম্বে চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন, পর্যাপ্ত মানসম্মত ওষুধ সরবরাহ এবং সার্বক্ষণিক প্যাথলজিক্যাল টেস্ট ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ ছাড়া, ওষুধ গায়েবের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের জবাবদিহি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নের দাবি জানানো হয়।


