সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে প্রশাসনিক ভবনের লবিতে এ শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘খালেদা জিয়া আজীবন ক্ষমতার মোহে রাজনীতি করেননি, বরং ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করেছেন। তিনি পরম মমতায় গণতন্ত্রকে আগলে রেখেছেন–যখনই তা বিপন্ন হয়েছে, তিনি রাজপথে নেমেছেন, কারাবরণ করেছেন, কিন্তু আপস করেননি।’
তিনি বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় নেতৃত্ব দুই ধরনের—একটি প্রশাসনিক, অন্যটি নৈতিক। খালেদা জিয়া প্রশাসনিক ক্ষমতার বাইরে থেকেও বহু সময় রাষ্ট্রের নৈতিক বিবেক হয়ে উঠেছেন। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন যেমন, তেমনি ক্ষমতার বাইরে থেকেও তিনি বিরোধী রাজনীতিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা দিয়েছেন।’
মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান আরও বলেন, তিনি শিখিয়েছেন রাষ্ট্র মানে কেবল সরকার নয়; রাষ্ট্র মানে জনগণের সম্মিলিত আশা ও অধিকার। এই বোধ থেকেই তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র, বহুদলীয় ব্যবস্থা ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন—যা তাকে একটি সময়ের নয়, বরং একটি রাষ্ট্রীয় দর্শনের প্রতিনিধি করে তুলেছে।
সভায় উপউপাচার্য মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্মের উপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন এবং বলেন, ‘খালেদা জিয়া সদা দেশের জনগণের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবেন। তিনি তার কর্ম দিয়ে মহামান্বিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) এবং ফিশারিজ বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদীকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নুর হোসেন চৌধুরী।
আলোচনা শেষে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফিশারিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ছাত্রী হলের প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) মৌসুমী আক্তার।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থীবৃন্দ, দপ্তর ও শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।


