ইরানের সঙ্গে খসড়া শান্তিচুক্তির আভাস দেওয়ার পরও দেশটির বন্দর নগরী বান্দার আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বুধবার ওই হামলায় কার্যত অচল হরমুজ প্রণালির আশপাশে ‘হুমকি সৃষ্টিকারী’ চারটি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
বিবিসির খবরে বলা হয়, গত তিন দিনে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে মার্কিন সেনারা হামলা চালালো।
এর আগে গত মঙ্গলবার চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ ইরানে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় তারা দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ মাইন পুতে রাখার কাজ করছিল। প্রণালিতে বেসামরিক নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইরানি জাহাজগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করে সেন্টকম।
এদিকে বুধবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান “প্রায় নিঃশেষ” হয়ে গেছে এবং এই অবস্থায় শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।’
‘তারা (ইরান) ভেবেছিল আমাকে অপেক্ষায় রেখে দেবে। সামনে তো মধ্যবর্তী নির্বাচন আছে। কিন্তু আমি মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবি না।’
আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন তার যুদ্ধ কৌশলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না বলেও জোর দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আমাদের এটি (যুদ্ধ) শেষ করতে হবে, হয়তো করতে হবে না। তারা (ইরান) খুব করে চায় একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে। এখন পর্যন্ত তারা সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। প্রস্তাব নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই, তবে শেষ পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট হব। অন্যথায় আমাদেরই এককভাবে চুক্তির কাজ শেষ করতে হবে।’
অন্যদিকে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক ও অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারকের খসড়া পাওয়ার দাবি করে ইরান।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই খসড়া প্রস্তাবের আওতায় দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটতে পারে।
খসড়ায় বলা হয়, চুক্তি সইয়ের এক মাসের মধ্যে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে।
এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জলসীমার কাছাকাছি এলাকা থেকে তাদের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেবে এবং গত এপ্রিল মাস থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌঅবরোধ তুলে নেবে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এই শান্তি আলোচনায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে। এমনটি করা হলে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি এবং খসড়ার অন্যান্য চূড়ান্ত শর্তাবলী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।


