নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, যেখানে তাদের বারবার নির্বাচন কমিশনে আসতে হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন যেন হঠাৎ করে এমন কোনো চিঠি বা সার্কুলার জারি না করে, যা নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, ইসি এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করুক, যা দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।’
এ ছাড়া, ইসি কর্তৃক ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহার বা বহন নিষিদ্ধ করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তারা বলেছে, ‘এ ধরনের ঘোষণা জনগণের মধ্যে উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে। আমরা ইসির সঙ্গে কথা বলেছি এবং তারা জানিয়েছে যে, ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে, মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে এবং ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ব্যবহার বিষয়ে একটি নির্দেশনা প্রদান করা হবে।’
জামায়াতে ইসলামী এ বিষয়ে আরও মনে করেছে যে, ইসির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন। কারণ, ইসির সিদ্ধান্তের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে সুনির্দিষ্টভাবে এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তারা একাধিক ধরনের ব্যাখ্যা না দেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি না ছড়ায়।’
বিএনসিসি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর) ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে রাখা প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, নির্বাচনের জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনসিসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তারা সহায়ক বাহিনী হিসেবে কাজ করে।
দলটি বলেছে, ইসি কর্তৃপক্ষ জানায় যে, এ ব্যাপারে আরপিও (রিপ্রেজেন্টেশন অব পিপলস অর্ডিন্যান্স)-এর কিছু বিধি রয়েছে। তবে, তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। আমাদের মতামত হল, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে হচ্ছে, আর এর ফলে জনগণের আগ্রহও বেশি থাকবে ‘
জামায়াত আরও বলেছে, ‘তবে যত বেশি সহায়ক বাহিনীকে সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব, তত বেশি দরকার, যাতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও ইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘খুলনা ডিআইজি, নাটোর ও শরীয়তপুরের এসপিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কর্মকর্তাদের বিষয়ে আমরা অভিযোগ জানিয়েছি। তাদের আচরণ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত নয়। এসব কর্মকর্তাদের পদক্ষেপের জন্য যথাযথ দিকনির্দেশনা প্রদান করা উচিত, এবং প্রয়োজনে তাদেরকে প্রত্যাহারও করা যেতে পারে। তাদের কর্মকাণ্ড নির্বাচনের জন্য অনুকূল নয় এবং এসব এলাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি, এমন পরিস্থিতি যেন না হয়, যাতে আমাদেরকে বারবার নির্বাচন কমিশনে আসতে হয়।’
জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় যে, যদি নির্বাচন কমিশন হঠাৎ কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়, তা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ইসি এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এ ছাড়া, রিটার্নিং অফিসারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। ‘নাটোরের রিটার্নিং অফিসার গতকাল একটি চিঠি জারি করেছেন, তার এলাকায় কোনো মিছিল চলবে না, এটা কী বাংলাদেশের বাইরে? এই ধরনের সিদ্ধান্ত জনমনে অস্বস্থির সৃষ্টি করছে।’


