জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি ও ‘সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল’-এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও জাবি সংসদ।
রোববার সকালে উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসানের নিকট এই স্মারকলিপি দেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের, বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে লিঙ্গবিদ্বেষী ও অবমাননাকর মন্তব্যের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার একটি টকশোতে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে ‘স্লাটশেমিং’ ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়নের মতে, মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হলেও তা ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অনলাইন নিপীড়নে রূপ নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ছাড়া অভিযোগ করা হয়, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)-এর কিছু প্রতিনিধি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এসব অনলাইন হয়রানির সঙ্গে জড়িত।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছাত্র ইউনিয়নের দাবিগুলো হলো-সাইবার বুলিংয়ে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা। অনলাইন হয়রানিতে অভিযুক্ত জাকসুর সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করা। ভুয়া ও অপপ্রচারমূলক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও পেজগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। সাইবার হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন।
এ বিষয়ে জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহনশীল ও প্রগতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।


