চার বছর ধরেই উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ভুগতে থাকার মধ্যে ফের টানা তিন মাসে ৯ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতির তথ্য দিল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এবারও মজুরি বৃদ্ধির হারের তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেশি থাকার কথা জানিয়েছে তারা, যার অর্থ হলো মানুষের আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে বেশি।
সরকারি সংস্থাটি বলছে, সদ্য বিদায়ী মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।
এর অর্থ হলো ২০২৫ সালের জুন মাসের যেসব পণ্য ও সেবা কেনায় মানুষের ১০০ টাকা খরচ হলে এবারের জুনে তা বেড়ে হয়েছে ১০৯ টাকা ১৬ পয়সা।
অন্যদিকে, জুন মাসে শ্রমিকের মজুরি হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় মানুষের ব্যয় বৃদ্ধির হার এক শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।
এই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আগের মাসের তুলনায় খানিকটা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এবারও শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকার তথ্য মিলেছে।
গ্রামীণ এলাকায় জুনে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে, ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ আর খাদ্যবহির্ভূত ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, শহরাঞ্চলেও পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট, খাদ্য এবং খাদ্য বহির্ভুত মূল্যস্ফীতি পাওয়া গেছে যথাক্রমে ৯ দশমিক ০১ শতাংশ হয়েছে, দশমিক ৭৬ শতাংশ ও ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বিদায়ী অর্থবছরে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ।
জুনে সামগ্রিক মজুরি বৃদ্ধির হারের তুলনায় কৃষি খাতে কিছুটা বেশি বেড়েছে। বোরো ধান উঠার এই মৌসুমে এই খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার হয়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। শিল্প খাতে এই হার ৮ দশমিক ১১ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
করোনা ভাইরাস মহামারি শেষে বিশ্ব স্বাভাবিক হতে থাকলে ২০২১ সালের শেষে উচ্চ মূল্যস্ফীতি শুরু হয়। বাংলাদেশে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার শুরুর পর থেকে।
তখন থেকেই প্রতি বছরই প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যস্ফীতি হতে থাকে, সরকারগুলো নীতিসুদ হার বাড়ানোসহ নান উপায়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।


