ফার ইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন। কিন্তু যখন সেই জবানবন্দিতে সই দেওয়ার সময় এল, তখনই তিনি বেঁকে বসলেন।
সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই ঘটনা ঘটে; যা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সেখানে বলা হয়, ঢাকার বারিধারা, গুলশান, বসুন্ধরা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে নজরুল ইসলামের বিপুল সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলাম নিজেই তার বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমিসহ বিপুল সম্পদের তথ্যও দিয়েছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার বংশাল থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় সোমবার তাকে তোলা হয় ঢাকা সিএমএম আদালতে। কিন্তু আদালতে গিয়ে তিনি জবানবন্দিতে সই করতে অস্বীকার করেন।
ফলে ১৬৪ ধারা শেষ করা সম্ভব হয়নি।
নজরুল ইসলাম জবানবন্দিতে যা বলেছেন তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করেছে দুদক।
সেখানে বলা হয়, নজরুল ও তার পুরো পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার দিয়ে দেশটির ওয়েলিংটনে বাড়ি কেনেন। ২০১৪ সালে ফারইস্টের নামে রাজধানীর ৩৬ তোপখানা রোডের জমি ২০৭ কোটি টাকা জমি কেনার সময় ২৮ কোটি টাকা ভাগাভাগি হয়। যার মধ্যে তিনি ৬ কোটি টাকা ভাগ পান।
দুদক আরো জানায়, জমি বিক্রেতা আজহার হোসেন খানের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায় জড়ান নজরুল এবং তার কাছ থেকে তার ব্যাংক হিসাবে ১০ কোটি ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা সরিয়ে পরে পাচার করেন।
দুদকের অভিযোগ, ফারইস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এমএ খালেক তার নিজ ও পরিচিত লোকদের নামে ১১টি প্রতিষ্ঠানের নামে বেনামে ৫৯১ কোটি টাকা ঋণের নামে আত্মসাৎ করেন। অর্থ আত্মসাতে সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামসহ অন্যান্যও জড়িত বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
এম এ খালেক, তার ছেলে শাহরিয়ার খালেদ, প্রাইম ফাইন্সসিয়াল সিকিউরিটি লিমিটেড, পিএফআই সিকিউরিটিজ, প্রাইমেশিয়া ইউনিভার্সিটি, প্রাইমেশিয়া ফাউন্ডেশন ইত্যাদি কোম্পানি দেখিয়ে ঋণের নামে আত্মসাৎ করেন বলেও স্বীকার করেন।
তিনি ঢাকা বোট ক্লাব, ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব সহ ১৪টি ক্লাবের সদস্য। ২০১৬ সালে ১০ লাখ টাকা দিয়ে সদস্য হয়েছিলেন। এছাড়া দুই লাখ টাকা দিয়ে বারিধারা ক্লাবেরও সদস্য হন।
২০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ
দুদক বলছে, বারিধারায় আট কাঠা জমির উপর পুতুল হাউজ নামে বিদেশিদের ভাড়া দেওয়ার জন্য নজরুলের একটি ট্রিপ্লেক্স হাউজ রয়েছে। গুলশান-১ এ ভাসাবির পেছনে ৩২০০ স্কয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। বারিধারায় ডিএইচওএসে ২৮৪১ স্কয়ার ফুটের একট ফ্ল্যাট রয়েছে। গুলশান-২ এ পাঁচ কাঠার উপরে দুই তলা ভবনসহ অফিস ভবন রয়েছে।


