চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন প্রক্রিয়ার চলমান অস্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দায়হীনতা দূর করতে চার দফা দাবি জানিয়েছে ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ পর্ষদ।
রোববার বিকাল সাড়ে ৪টায় চাকসু ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পর্ষদের পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান পর্ষদের ভিপি পদপ্রার্থী ধ্রুব বড়ুয়া ও জিএস প্রার্থী সুদর্শন চাকমা।
সেখানে বলা হয়, ‘শিক্ষার্থীদের বহুল আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক দায়হীনতা গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৬ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভোটারের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে ব্যালট পেপার নিশ্চিত না করা, প্রশাসনের উদাসীনতা এবং নির্বাচন কমিশনের দায়হীন আচরণ সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক।’
বৈচিত্র্যের ঐক্য পর্ষদ আরও বলছে, ‘নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং সমান সুযোগ সৃষ্টিতে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থতা প্রদর্শন করছে। নির্বাচন সংক্রান্ত সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোনো বিশেষ স্বার্থ রক্ষা করছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য ভেন্ডরের নাম প্রকাশ করা জরুরি। এছাড়া পোলিং এজেন্টের তালিকা নির্বাচন শুরু হওয়ার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে প্রকাশ করতে হবে, যাতে কোনো বৈষম্য বা অনিয়ম সৃষ্টি না হয়।’
বৈচিত্র্যের ঐক্য পর্ষদ নির্বাচন কমিশনের দায়হীন ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে।
যার মধ্যে রয়েছে, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্রেইল পদ্ধতিতে ব্যালট পেপার এবং ভোট প্রদানের সমন্বিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
পোলিং এজেন্টের তালিকা নির্বাচনের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে প্রকাশ করা।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে শিক্ষক ও অ্যালামনাইদের নিয়ে পর্যবেক্ষক টিম গঠন এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক নিরাপত্তা পাস দেওয়া এবং নির্বাচনের ব্যালট পেপার, ভোট গণনা মেশিনসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা।
সংবাদ সম্মেলনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সিদ্ধার্থ মিস্ত্রী ব্রেইল পদ্ধতিতে ভোট নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো ব্রেইল ভোটের ব্যবস্থা করছে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, এবং সাম্প্রতিক ডাকসু নির্বাচনে ব্রেইল ভোট সুষ্ঠুভাবে নেওয়া হয়েছিল।’


