জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল ও বাদানুবাদ সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে পার্থ দাবি করেন, বিরোধী দলের নেতারা জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার কথা বলেছেন। তার এই মন্তব্যের পরপরই সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পার্থের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান একে ‘বেপরোয়া বক্তব্য’ হিসেবে অভিহিত করেন। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে পার্থ বলেন, তিনি কখনোই জিয়া পরিবার বা অন্য কাউকে নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেননি।
তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, বক্তৃতায় মাধুর্য আনতে গিয়ে কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো উচিত নয়। এ সময় তিনি স্পিকারের কাছে প্রতিকার দাবি করেন এবং পার্থকে তার বক্তব্যের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেওয়ার আহ্বান জানান।
পাল্টা জবাবে আন্দালিব রহমান পার্থ তার কাছে থাকা কিছু নথিপত্র দেখিয়ে দাবি করেন, ১১ দলীয় জোটের এক নেতা এমন মন্তব্য করেছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল হস্তক্ষেপ করেন এবং সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ভিন্নমত থাকলেও অন্য সংসদ সদস্যের বক্তব্যে এভাবে বাধা দেওয়ার অধিকার কারো নেই।
পরে পার্থ তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, বিরোধীদলীয় নেতা জোটের প্রধান হওয়ায় হয়তো তার নাম চলে এসেছে, তবে কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকলে সেটি নিরসনে তার আপত্তি নেই।
সবশেষে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন, সংসদে দাঁড়িয়ে কোনো রেফারেন্স দিলে তা অবশ্যই সত্য এবং স্বচ্ছ হতে হবে।


