প্রতিবছর ঈদ ঘনিয়ে এলেই সবার চোখ থাকে আকাশে। কবে দেখা যাবে ঈদের চাঁদ, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ থাকে না। তবে সব বছর সব দেশের আকাশ থেকে চাঁদ দেখা যায় না। তখন বিকল্প পদ্ধতিতে ঈদের দিন ঠিক করা হয়।
চলতি বছর বাংলাদেশের আকাশে ঈদ-উল-ফিতরের চাঁদ দেখা যাবে কিনা, তা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। বিজ্ঞানের অগ্রগতি আমাদের এ সুযোগ দিয়েছে যে, আমরা আগে থেকেই বলতে পারি চাঁদ দেখার সম্ভাবনা আছে, নাকি নেই।
সে অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখার কোনো সম্ভাবনা নেই। পরদিন শুক্রবার আকাশ পরিস্কার থাকলে সারা দেশ থেকেই স্পষ্টভাবে ঈদের চাঁদ দেখা যাবে।
এই হিসাবে বাংলাদেশে ৩০ রোজা শেষে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং চন্দ্র-সূর্য নির্ভর পঞ্জিকা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেদিন ঈদ হয়, বাংলাদেশে তার পরের দিন ঈদ পালিত হয়ে থাকে। এবার এরই মধ্যে বাহরাইন শুক্রবার ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে। এই হিসাবেও বাংলাদেশে ঈদ হবে শনিবার।

চাঁদ দেখার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় হিজরি মাসের চন্দ্র উদয় নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘মুনসাইটিং ডট কম’ একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরেছে।
তাদের প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, ১৯ মার্চ উত্তর আমেরিকা থেকে খালি চোখে চাঁদ দেখা যাবে। একই দিনে ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশ থেকে সাধারণ দূরবীনের সাহায্যে এবং ভারতের পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদ দেখা যেতে পারে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বৃহস্পতিবার ভারত বা বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখার কোনো সুযোগ নেই। অবশ্য এর পরের দিন অর্থাৎ শনিবার বাংলাদেশসহ প্রায় পুরো বিশ্ব থেকেই খালি চোখে শাওয়ালের চাঁদ স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।
মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ‘স্টেলারিয়াম’ থেকেও একই ধরণের তথ্য পাওয়া গেছে।
ওয়েবসাইটটির তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে সূর্য ও চাঁদ প্রায় একই সময়ে অস্ত যাবে। সূর্যাস্তের কয়েক মিনিট পর চাঁদ ডুবলেও সূর্যের উজ্জল লাল আভার কারণে তা চাঁদ দেখা যাবে না।
তবে শুক্রবার সূর্য বেশ আগেই অস্ত যাবে এবং আকাশ অন্ধকার হয়ে এলে পশ্চিম আকাশে অনেকটা সময় ধরে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ অবস্থান করবে। বিশেষ করে ঢাকা সহ সারা দেশের আকাশে সন্ধ্যা পৌনে ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত খালি চোখে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে চাঁদ দেখা যাবে।

আধুনিক বিজ্ঞানের পাশাপাশি প্রাচীন ও চিরায়ত পঞ্জিকার হিসাবও একই সংকেত দিচ্ছে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা-পার্বণের জন্য ব্যবহৃত ‘পঞ্জিকা ডট কম’ এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থাকবে কৃষ্ণপক্ষ বা অমাবস্যার শেষ রাত, যার ফলে আকাশে চাঁদ দেখা যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।
শুক্লপক্ষ শুরু হবে শনিবার থেকে। ওইদিন সন্ধ্যায় আকাশে যে চাঁদের ফালি দেখা যাবে, তা তুলনামূলকভাবে কিছুটা মোটা হবে। ওইদিন হবে শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া বা চাঁদের দ্বিতীয় রাত। কারণ আগের সন্ধ্যায় সূর্য ডোবার পর কয়েক মুহূর্তের জন্য আকাশে চাঁদ থাকায় সেটিই হচ্ছে চাঁদের প্রথম রাত। যদিও সূর্যের লাল আভার কারণে সেটি দেখা যাবে না।
সব মিলিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং পঞ্জিকার সম্মিলিত হিসাব বলছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে শনিবার দেশজুড়ে আনন্দের ঈদ উদযাপিত হবে।


