আট দিন নিখোঁজ থাকার পর এক বাংলাদেশি যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকালে ৫৩ বিজিবির ফরিদপুর বিওপির দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় শওকতের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় জেলেরা।
নিহত শওকত আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঠাপাড়া গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নির্যাতন করে তাকে হত্যা ভাসিয়ে দিয়েছে।
বিজিবি ও এলাকাবাসী জানিয়েছে, গত ৯ মে রাতে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল সদর উপজেলার জহুরপুরটেক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গরু আনতে যায়। নিখোঁজের আট দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার হলে সেদিন সন্ধ্যায় তার পরিবার মরদেহটি নিয়ে এসে দাফনের প্রস্তুতি নিলে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সমির উদ্দীন ও এলাকাবাসী জানায়, বিএসএফের নির্যাতনে শওকতের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গোদাগাড়ী নৌ পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক জীবন চন্দ্র রায় জানান, মরদেহে গুলির চিহ্ন না থাকলেও হাত-পায়ে ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জানা গেছে শওকত গরু আনতে ভারতে গিয়েছিল। পরে স্থানীয় ও জেলেদের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে রোববার সন্ধ্যায় পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করেছে।


