দেশ ও প্রবাস–দুই প্রান্তের মানুষের অভিযোগ ও আবেদন সরাসরি শুনেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুটি পৃথক গণশুনানিতে প্রবাসীদের সম্পত্তি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ও জীবিকার সংকটের নানা আবেদন উঠে আসে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দিনের প্রথম ভাগে ‘প্রবাসী গণশুনানি’তে জুম প্ল্যাটফর্মে চারজন এবং সশরীরে দুজন প্রবাসী অংশ নেন। দুবাইপ্রবাসী আবুল খালেক ও মোহাম্মদ হারুন যথাক্রমে পটিয়া ও বোয়ালখালীতে তাদের পরিবারের ওপর নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগ করেন।
আবুধাবিপ্রবাসী রাজু মুহুরী জমিজমা বিরোধে হামলা এবং সাইফুল ইসলাম হাটহাজারীতে সম্পত্তি জবরদখল ও চাঁদাবাজির কথা জানান।
এ ছাড়া আবুধাবিপ্রবাসী মোরশেদ আলম ও কাতারপ্রবাসী নুরুল হাকিম অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের সহযোগিতা চান। প্রতিটি অভিযোগ শুনে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন।
প্রবাসী গণশুনানি শেষে শুরু হয় সাধারণ নাগরিকদের উন্মুক্ত গণশুনানি। এতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৫ জন সেবাপ্রত্যাশী অংশ নেন।
শুনানিতে জেলা প্রশাসনের প্রয়াত কর্মচারী মো. ফোরকানের স্ত্রী জেসমিন আরা বেগম তিন সন্তান নিয়ে তার সংকটের কথা জানান।
গোপনীয় শাখার কর্মচারী মোহাম্মদ আলী তার ছেলের জরুরি অস্ত্রোপচার এবং জেলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় মো. তানভীর হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চান।
এ ছাড়া জটিল রোগে আক্রান্ত কানু মজুমদার, জান্নাতুল আক্তার এবং মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি নিয়ে সংকটে থাকা কামাল আহমেদসহ অনেকেই তাদের সমস্যা তুলে ধরেন।
শুনানি শেষে গুরুতর অসুস্থ আটজনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় এবং অন্যান্য আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, এই গণশুনানি প্রশাসন ও জনগণের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।


