চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের গণশুনানিতে উঠে এসেছে বার্ধক্য, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, দারিদ্র্য ও উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সংগ্রামের মতো নানা সংকটের কথা।
বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর থেকে আসা একাধিক সেবাপ্রত্যাশীর আবেদন ও অভিযোগ শোনেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। একই সঙ্গে তিনি অনলাইনে যুক্ত হওয়া কাতার, দুবাই ও ওমানে অবস্থানরত পাঁচজন প্রবাসী বাংলাদেশির অভিযোগও শোনেন।
গণশুনানিতে রাঙ্গুনিয়ার জাফর আহমদ চিকিৎসা ও জীবিকা নির্বাহের জন্য এবং পূর্ব মাদারবাড়ীর পিংকি হিজড়া স্তন ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। বাঁশখালীর মর্জিয়া বেগম বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন এবং স্বামী-সন্তানহীন হাসিনা বেগম শ্বাসকষ্ট ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা চালানোর সামর্থ্য হারিয়েছেন।
লোহাগাড়ার এক গণমাধ্যমকর্মী এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ফ্রন্ট ডেস্কে কর্মরত রিতা দাশ তাদের বাবার ক্যানসারের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রমের কথা তুলে ধরে আর্থিক সহায়তা চান।
পাহাড়তলীর আনোয়ারা বেগম জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপনের পাশাপাশি অর্থের অভাবে তিনি পিত্তথলির পাথর অস্ত্রোপচার করাতে পারছেন না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সেলিম ভূঁইয়া তার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে এককালীন শিক্ষাবৃত্তি সহায়তা চান।
অন্যদিকে, অনলাইন গণশুনানিতে প্রবাসীরা পৈতৃক সম্পত্তি দখল, জাল দলিল তৈরি, পারিবারিক হয়রানি, প্রাণনাশের হুমকি ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়া ও পটিয়ার দুই বাসিন্দাও জমি দখলের অভিযোগ জানান।
সব অভিযোগ শুনে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তদন্ত, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। গণশুনানি শেষে চরম আর্থিক সংকটে থাকা নয়জনকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় এবং চারজন দুস্থ নারীকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, একটি আবেদনপত্রের পেছনে থাকে একটি পরিবারের কষ্ট, রোগীর চিকিৎসা কিংবা শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। সরকারি নীতিমালার আওতায় থেকে প্রকৃত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শেষ আশ্রয় হিসেবে আসা জনগণের প্রতিটি আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে শুনে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব।


