নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের শুরুটা হয়েছে ধীরগতিতে। ব্যবসায়ীদের জন্য ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক হলেও প্রথম দুই দিনে এর মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে মাত্র ২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক এই লেনদেনের তথ্য প্রকাশ করে। তবে এই লেনদেনের পরিমাণ এখনো দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার তুলনায় খুবই সামান্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ থেকে ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। সেই হিসাবে, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিনের ১১ কোটি টাকার লেনদেন মোট দৈনিক এমএফএস লেনদেনের মাত্র প্রায় দশমিক ২ শতাংশ।

শুরুর লেনদেন সীমিত হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের উদ্যোগ থেকে তারা কোনোভাবেই সরে আসবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘বাংলা কিউআর প্রবর্তনে যেসব প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করবে না তারা আসলে বাজার থেকে ছিটকে পড়বে। যারা এগিয়ে আসবে তারাই ভবিষ্যতে এই বাজারে নেতৃত্ব দেবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার উদ্যোগ থেকে কোনোভাবেই পিছিয়ে যাবে না।’
নগদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি আন্তসংযোগযোগ্য (ইন্টারঅপারেবল) ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১ জুলাই থেকে ব্যবসায়ী পয়েন্টগুলোতে একক পেমেন্ট সিস্টেম বাংলা কিউআর সরবরাহ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই ব্যবস্থায় একজন ব্যবসায়ীকে বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড প্রদর্শন করতে হবে না।
একটি মাত্র বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করেই যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহক তাদের নিজস্ব অ্যাপ থেকে সরাসরি মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এই একক কিউআর কোড সরবরাহ করবে।


