ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে লড়তে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৪৩ প্রার্থী। যাদের মধ্যে মাত্র পাঁচজন নারী।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই নারীদের মধ্যে দুইজন স্বতন্ত্র, দুইজন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এবং একজন ইনসানিয়াত বিপ্লব দলের প্রার্থী।
নারী প্রার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী) আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলার আহ্বায়ক আসমা আকতার। তিনি সিআরবি রক্ষা আন্দোলন, বিপ্লব উদ্যান রক্ষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও শ্রমিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নগরের ষোলশহর বস্তিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনামূল্যের স্কুল পরিচালনা করছেন।
আসমা আকতার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকারের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহে শ্রমিকরাই অর্থ সংগ্রহ করছে। এখনো আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করিনি, ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে এগোচ্ছি।’
একই আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লব দল থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন দলটির চট্টগ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক সাবিনা খাতুন। ২০১৮ সালেও জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি।
টাইমস অব বাংলাদেশকে সাবিনা বলেন, ‘বিশ্বে মানুষের অভাব নেই, অভাব মানবতার। সেই মানবতার রাজনীতির জন্যই আমি নির্বাচনে এসেছি।’
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাকিলা ফারজানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য এম ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আপাতত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর) আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলটির চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক নগর সভাপতি দীপা মজুমদার। এছাড়া চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জিন্নাত আকতার।
নারীদের কম অংশগ্রহণের বিষয়ে কথা হয় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবীরের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘এই সংখ্যা অন্তত ৫০ শতাংশ হওয়া উচিত ছিল। সংরক্ষিত আসনের সংস্কৃতির কারণে নারীরা সরাসরি নির্বাচনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। পাশাপাশি সামাজিকভাবে নারীদের আরও গৃহবন্দি করে রাখার প্রবণতাও তাদের পিছিয়ে দিচ্ছে।’


