ঢাকার শাহজাহানপুরে স্ত্রীকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে রুবেল মিয়া (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নিয়াজ মেহেদী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, প্রায় ১১ বছর আগে পারিবারিকভাবে স্বপ্না খাতুন আক্তারের সঙ্গে রুবেল মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। রুবেল মিয়া মাদকাসক্ত ও কর্মহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ। দাম্পত্য কলহের কারণে স্বপ্না এর আগে দুইবার রুবেলকে ডিভোর্সের নোটিশ দিয়েছিলেন। পরে রুবেলের অনুরোধে তারা আবার সংসার শুরু করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট রুবেল তার স্ত্রীকে মারধর করেন। এ ঘটনার পরদিন রাতে শাহজাহানপুর থানার গুলবাগের ভাড়া বাসায় পারিবারিক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। সেখানে রুবেল আর স্ত্রীকে মারধর করবেন না বলে জানান। তবে ওই রাতেই ফের তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং বাসার কিছু হাঁড়ি-পাতিল ভাঙচুর করা হয়।
পরদিন ৯ আগস্ট সকালে স্বপ্না ভাঙা জিনিসপত্র দেখতে পেয়ে রুবেলকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন। এ সময় পূর্ব বিরোধের জেরে রুবেল তার স্ত্রীকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ পুলিশের। পরে তিনি পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, ওইদিন দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে নিহতের এক আত্মীয় বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় খাটের ওপর স্বপ্নার মরদেহ দেখতে পান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ওয়াহেদ আলীর অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
মামলা দায়েরের পর গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় রুবেলের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহজাহানপুর থানাধীন আমতলা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


