গার্মেন্ট শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও পূর্ণ ঈদ বোনাস এবং মার্চ মাসের অর্ধেক বেতন ২০ রমজানের মধ্যে পরিশোধের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন।
শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এ দাবি জানান।
সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি শ্রমিকনেতা মন্টু ঘোষ বলেন, ‘শ্রমিকের সীমাহীন আত্মত্যাগ ও জীবনদানের মধ্যদিয়ে দেশে যে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে তার ফলাফল হিসেবে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষ বঞ্চিতই হয়ে আসছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি অনুসারে গার্মেন্ট শ্রমিকের নতুন মজুরি কাঠামো হয়নি। মজুরি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাজারদরের সঙ্গে সংঙ্গতিপূর্ণ হারে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি না করা, বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ছাটাই, পাওনা পরিশোধ না করে কারখানা বন্ধ ইত্যাদি জুলুম চলমান আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক সময়ে শ্রমিকের বেতন, পূর্ণ ঈদ বোনাস দেওয়ার দায়িত্ব মালিকপক্ষ নিতে চাচ্ছে না। তারা তাদের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সরকারের কাছে এ বাবদ ঋণ আদায়ের শর্তে দরকষাকষি শুরু করেছে।’
সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম বলেন, ‘শ্রমিকরা বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি বহু আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নিজেদের সংকটের সুরাহা হবে ভেবেছিল। কিন্ত কিছু কাগজপত্র প্রকাশ ছাড়া বাস্তবে সরকারের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে শ্রমিকের প্রত্যাশার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।’
সমাবেশে নেতারা বলেন, কিছু কারখানায় এখনো জানুয়ারি মাসের মজুরি পরিশোধ করা হয়নি। বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। মালিকপক্ষ লোকসানে থাকার ওজুহাত দেখিয়ে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ করেছে।’
নেতারা প্রশ্ন রাখেন, কার্যাদেশ কম থাকায় যদি মালিকরা লোকসানেই থাকবেন, তাহলে কেন শ্রমিকদের দিয়ে দিন-রাত ওভারটাইম করানো হচ্ছে। টার্গেটের নামে এত বাড়তি উৎপাদনের চাপ কেন শ্রমিকদের দেওয়া হচ্ছে।
সমাবেশ থেকে আগামী ৬ মার্চ গার্মেন্ট শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও পূর্ণ ঈদ বোনাস এবং মার্চ মাসের অর্ধেক বেতন পরিশোধের দাবিতে সব গার্মেন্ট শিল্প এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
শ্রমিক সমাবেশ শেষে একটি মিছিল কদমফুল ফোয়ারা ঘুরে তোপখানা সড়ক হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দিলীপ দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহ-সভাপতি জিয়াউল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা দুলাল সাহা, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শাজাহান, কোষাধ্যক্ষ আজিজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা মৈত্রী ঘোষ, রিফাত হাবিব, শিল্পী আক্তার, শাহীন আলম, ইব্রাহীম ফকির, বাবলু হাসান প্রমুখ।


